পুঁজিপতিদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণায় প্রতিবাদ

0
37


পুঁজিপতিদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণায় প্রতিবাদ

করোনা ভাইরাসের আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুনাফাখোর পুঁজিপতিদের জন্য ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার যে আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাসদের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে ভয়াবহ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের দেশও ভয়ংকর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপযুক্ত প্রস্তুতি না নিলে আমাদের দেশেও বিরাট প্রাণহানির আশঙ্কা আছে। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত ছিল লকডাউন ঘোষণা করে জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা। অথচ সরকার শুধু সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত হাসপাতাল প্রস্তুত করা, ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষা সামগ্রী, প্রশিক্ষণ কোন কিছুরই যথাযথ ব্যবস্থাপনা করে নাই। এসময় সবচেয়ে জরুরি ছিল সারাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং এর ব্যবস্থা করা।

তিনি আরো বলেন, আমরা লক্ষ্য করলাম প্রধানমন্ত্রী গতকাল যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেন তাতে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতে এবং শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জন্য কোন বরাদ্দ নেই। সেখানে বৃহৎ শিল্প খাতে ৯ শতাংশ হারে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ সরকার ভর্তুকি দেবে সরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অর্থ সরকার ভর্তুকি দেবে। এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে ১২ হাজার ৫০০ কোটি, রপ্তানি পণ্য পরিবহনে ৫০০০ কোটি, রপ্তানি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা বাবদ ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ সারাদেশের নিম্নআয়ের কোটি কোটি খাদ্যাভাবে থাকা মানুষের জন্য রেশনিং এর জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের খাদ্যের সরবরাহ অটুট রাখার জন্য কৃষককে চাষ বন্ধ না করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে উৎপাদন বজায় রাখার জন্য তাদেরকে কোন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। লক ডাউনের কারণে কৃষি যন্ত্রপাতি ও মালামাল পরিবহনে তাদের খরচ অনেক স্বাবাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হচ্ছে। আবার উৎপাদিত কৃষকের কাছ থেকে বাজার পর্যন্ত আসার সরবরাহ চেইন ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। ফলে অনেক কম দামে তারা শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রচলিত সরবারহ ব্যবস্থায়ও তাদের মধ্যসত্ত্বভোগীদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হতো। তাতে তাদের ক্ষতি হতো, এখন এটা আরও বেড়েছে। অথচ এই সরকারি কোষাগারের এই অর্থের যোগানদাতা এই গরীব কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা।

তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে আসন্ন ভয়াবহ মহামারী ঠেকানোর সবরকমের সর্বাত্মক পস্তুতি নেয়া দরকার ছিল। অথচ এ খাতে একটা কানাকড়িও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এ থেকে স্পষ্ট সরকার দেশের জনগণকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে পুঁজিপতিদের রক্ষায় ব্যস্ত। সরকারের পুঁজিপতিদের পক্ষে এই নির্লজ্জ দালালির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ আর্থিক প্যাকেজ বাতিল করে জনস্বার্থে নতুন করে বিশেষত কৃষকদের জন্য, শ্রমজীবী মানুষের রেশনিং এর জন্য এবং স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য দলের পক্ষ থেকে আমরা জোরালো দাবি জানান তিনি।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে