প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনবে সরকার

0
48


প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনবে সরকার

করোনা ভাইরাস থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েতসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনা ভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য করণীয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামছুল আলম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকার খাদ্য, চিকিৎসাসহ সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য সব ধরনের সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এ জন্য দূতাবাসগুলোর চাহিদা অনুসারে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আবদুল মোমেন বলেন, প্রবাসীরা দেশের সম্পদ। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। বিদেশ থেকে কতজনকে ফেরত আনব, এটা কঠিন সিদ্ধান্ত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বুঝে-শুনে বাস্তবতার নিরিখে কাজ করব। আমরা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি, তাদের চিঠিও দিচ্ছি। তাদের বলছি, এই কঠিন সময়ে তোমরাও অসুবিধায় আছ, আমরাও অসুবিধায় আছি। কিন্তু এর মধ্যেও মানবতার খাতিরে তোমরা এদের (প্রবাসী বাংলাদেশি) সাহায্য করছ, আরো সাহায্য কর। তাহলে আমরা খুশি হব।

‘কতগুলো দেশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর কথা বলেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুব বেশি দেশ না, কয়েকটি। ৪-৫টি দেশ হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, একেক দেশেই আমাদের অনেক লোক আছে। শোনা যাচ্ছে, চারটি দেশ থেকেই এক লাখের মতো প্রবাসী ফিরছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সংখ্যা এখন বলতে পারব না। শুধু এইটুকু বলতে পারি যে, আপাতত কুয়েত থেকে দুই দফায় যথাক্রমে ১২৫ ও ১৯০ জন ফিরবে। বাকি যে দেশগুলো আছে সেগুলো আমরা আস্তে আস্তে দেখে বলব। মালদ্বীপ থেকে প্রবাসীদের পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে, মালদ্বীপ কী অবৈধ প্রবাসীদের নাকি বৈধ প্রবাসীদেরও পাঠাতে চাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তিনি বলেছেন, সেখানে অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে আছেন। এখন যেহেতু করোনার কারণে পর্যটন বন্ধ, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ সেহেতু যারা বৈধভাবে আছেন তাদের মালদ্বীপ সরকার বিভিন্নভাবে সাহায্য করছেন। কিন্তু যারা অবৈধভাবে আছেন (আনডকুমেন্টেড) তাদের অনেকেরই বেশি কষ্ট হচ্ছে। সে জন্য প্রথম দফায় তারা অবৈধ বাংলাদেশিদের নাম তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। মালদ্বীপে আমাদের রাষ্ট্রদূত অবৈধদের নাম তালিকাভুক্ত করতে সবাইকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন। এই নাম নিবন্ধনের কাজ শেষ হলে হয়তো ওই দেশের সরকার কিছু লোককে দেশে পাঠাবে। তবে আমরা আশা করি না যে, সব লোক চলে আসবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে কুয়েত থেকে ৩১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হবে এবং কুয়েতের সেই ফিরতি ফ্লাইটে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ইপিএসের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ১৫০ জন কর্মী এবং সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীসহ ২৬ জনকে বাংলাদেশ বিমানের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে কোরিয়ায় পাঠানো হবে। তিনি বলেন, যেসব বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা ইকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ভিসা/ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ক‚টনৈতিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকে তাহলে তাদের ব্যাপারে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। দেশে ফেরত আনা প্রবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। সভা শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালেয় থেকে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, কঠিন সময়ে এই চাপ খুব যত্নের সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে