বেড়ে গেল মোটা চালের দাম

0
18


বেড়ে গেল মোটা চালের দাম

করোনা মহামারি প্রতিরোধে সরকার নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বেড়ে গেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য চালের দাম। গরিবের চাল বলে খ্যাত মোটা চালের দাম বাড়লেও কমেছে সরু চালের দাম। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য মিলেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, করোনা ভাইরাসের কারণে কষ্টে থাকা গরিব মানুষের পাশে অনেকে দাঁড়াচ্ছেন। তারা গরিব মানুষকে ত্রাণ হিসেবে মোটা চাল দিচ্ছেন। এ কারণে মোটা চালের চাহিদা বেড়ে গেছে। আর চাহিদা বাড়ার কারণে দামও বেড়ে গেছে। অপরদিকে যারা চিকন চাল কিনে খান তাদের বড় অংশই করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর পরই বেশি পরিমাণে কিনে বাসায় মজুত করেছেন। যে কারণে চিকন চালের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া কিছু ব্যবসায়ী কয়েকদিন চিকন চালের সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলেন। এখন বাজারে সেই ব্যবসায়ীদের চাল আসছে। এ কারণেই দাম কিছুটা কমেছে-এমনটাই জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
বর্তমান বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬০-৬৮ টাকা কেজি। আর করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আগে ছিল ৫২-৫৬ টাকা কেজি। কিন্তু গরিবের চাল হিসেবে পরিচিত মোটা চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮-৪০ টাকা। আর করোনা ভাইরাস আতঙ্কের আগে ছিল ৩২-৩৫ টাকা। অবশ্য মাঝারি মানের চাল গত সপ্তাহের মতো ৫০-৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনা আতঙ্কের আগে এ চালের কেজি ছিল ৪২-৪৫ টাকা।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও, সপ্তাহের ব্যবধানে চিকন চালের দাম কমেছে এবং মোটা চালের দাম বেড়েছে। তবে চিকন ও মোটা কোনো চালের ক্ষেত্রেই খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া দাম এবং টিসিবির দামের মধ্যে মিল নেই। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল রাজধানীর খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের কেজি বিক্রি হয় ৫৫-৬৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০-৬৮ টাকা। আর এক মাস আগে ছিল ৫৫-৬০ টাকা। এখন মাঝারি মানের চালের কেজি ৫০-৫৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ৫০-৫৬ এবং এক মাস আগে ৪৬-৪৮ টাকা ছিল। আর মোটা চালের কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২-৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ
আগে ৪০-৫০ এবং এক মাস আগে ৩৪-৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়।
যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, বাজারে এখন মিনিকেট চালের সরবরাহ বেড়েছে। রশিদের মিনিকেট কিছুদিন আসা বন্ধ ছিল, এখন আবার আসা শুরু হয়েছে। তবে আগের মতো মিনিকেট চালের চাহিদা নেই। তাছাড়া চলের বাড়তি দামের কারণে র‌্যাবও অভিযান চালিয়েছে। এসব কারণে চিকন চালের দাম কিছুটা কমেছে। করোনা আতঙ্কের আগে রশিদের ২৫ কেজি মিনিকেট চালের বস্তা ১৩৫০ টাকা বিক্রি করেছি। করোনা আতঙ্কের মধ্যে দাম এক লাফে বেড়ে হয় ১৫০০ টাকা। তবে এখন ১৪৫০ থেকে ১৪৭০ টাকা বিক্রি করছি। এভাবে সব ধরনের মিনিকেট চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা কমেছে।
মোটা চালের দামের বিষয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, চিকন চালের দাম কিছুটা কমলেও এখন মোটা চালের দাম বেড়েছে। এখন বাজারে মোটা চালের অনেক চাহিদা। এর অন্যতম কারণ যারা ত্রাণ দিচ্ছেন, তারা এই চাল কিনছে। যে কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিতে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর মাসের ব্যবধানে ১৫ টাকার মতো বেড়ছে। আগে যে মোটা চাল ৩২-৩৪ টাকায় বিক্রি করেছি এখন তা ৪৬ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই চাল ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। কিছু ক্ষেত্রে ৩৬ টাকা কেজিও বিক্রি করেছি।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী এখন খুচরা বাজারে মোটা চাল ৪২ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে, এই তথ্য তুলে ধরলে একাধিক চাল ব্যবসায়ী বলেন, টিসিবি কোথায় এই তথ্য পেয়েছে তা আমরা বলতে পারব না। এখন কোথাও মোটা চালের কেজি ৪৪ টাকার নিচে নেই। এটা হয়তো এক সপ্তাহ আগের দাম।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, র‌্যাবের অভিযানের পর বাজারে চিকন চালের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু মোটা চালের দাম বেড়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে আড়তের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- মোটা চালের এখন অনেক চাহিদা, সরবরাহ দিয়ে পারছেন না। মিল থেকে অনেক বেশি দামে মোটা চাল কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দাম বাড়তি। এখন মোটা চালের দাম বাড়লেও আমাদের ধারণা নতুন ধান ওঠার পর দাম কিছুটা কমতে পারে। তখন শুধু মোটা চলের দাম না, চিকন চালের দামও কমবে। কিন্তু নতুন চাল আসতে এখনও এক-দেড় মাস লাগবে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে