ভেন্টিলেটর বাজারে আসতে সময় লাগবে একমাস

0
36


ভেন্টিলেটর বাজারে আসতে সময় লাগবে একমাস

মেডট্রনিকের উন্মুক্ত করা ফর্মুলায় দেশে ভেন্টিলেটর তৈরির কাজ অনেক দূর এগুলেও তা বাজারে আসতে আরো অন্তত মাসখানেক সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের কয়েকটি গবেষণা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এখন ভেন্টিলেটরের বিভিন্ন অংশ তৈরির প্রচেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছে দিনরাত। এতে সহায়তা দিচ্ছেন বিদেশীরাও। সরকারের এ্যাকসেট টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম, এটুআই বিষয়টির সমন্বয় করছে।

এটুআইয়ের পক্ষে বিষয়টির সমন্বয়কারী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জুয়েল এর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, আমরা পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে কাজগুলো করছি। এর মধ্যে কেউ কাজ করছেন পিসিবি নিয়ে, কেউ এর ফার্মওয়্যার নিয়ে, কেউ বা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কোথায় পাওয়া যাবে তার উৎস খুঁজছেন। আবার কোনো দল ছুটছেন মোল্ড বা কেসিং বানানোর বিষয়ে নিয়ে।

তিনি জানান, গত বুধবার তারা হায়দ্রাবাদ আর এন্ড ডি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরই মধ্যে মেডট্রনিকের পক্ষ থেকে দুটি ফার্মওয়্যার পাওয়া গেছে। সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করছেন।

জুয়েল বলেন, সাধারণত পরীক্ষামূলকভাবে যন্ত্রটি বানানোর পর প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে ক্লিনিক্যাল টেস্ট করতে হয়। সব পরীক্ষায় সফল হলেই তারপর উৎপাদনের দিকে যাওয়া যায়। এতে এক থেকে দেড় বছরও লেগে যেতে পারে। তবে আমরা আশা করছি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আমরা সেটি করতে পারব।

ভেন্টিলেটর তৈরি এ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), ওয়ালটনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এর মধ্যে এমআইএসটি ভেন্টিলেটর উৎপাদনের খুবই কাছাকাছি চলে এসেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান কর্নেল সৈয়দ মাহফুজুর রহমান। এরই মধ্যে তাদের নিজস্ব একটি ডিজাইন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি অঙ্গ সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গেছে। তাছাড়া মেডট্রনিক্সের ডিজাইন নিয়েও তারা কাজ করছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) আইসিটি বিভাগের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে মাহফুজুর রহমান জানান, ভেন্টিলেটর উৎপাদনের তিনটি ধাপের মধ্যে ইতোমধ্যে এমআইএসটি দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছে গেছে, যেটি কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে। এরপর ৪ এপ্রিল থেকে ঢাকার কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউ বিভাগে এর ক্লিনিক্যাল টেস্ট হবে।

যে প্রতিষ্ঠানই সফলভাবে ভেন্টিলেটরের স্যাম্পল তৈরি করুক না কেন, তা ব্যাপকভিত্তিক উৎপাদনে যেতে এখন পর্যন্ত ওয়ালটনের সক্ষমতা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে সবার। এর মধ্যে আরেক বড় কোম্পানি ওরিয়নও তা উৎপাদনে আগ্রহ দেখিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশে ওয়ালটনের কারখানায় থ্রি-লেয়ার পিসিবি তৈরির ব্যবস্থা আছে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর খুবই জরুরি। এ পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর, পিএপিআর, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ইউভি ডিসইনফেকট্যান্ট, সেফটি গগলস ইত্যাদি তৈরিতে কাজ করছে ওয়ালটন। বর্তমানে এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের গবেষণা ও উন্নয়ন (আর এন্ড ডি) এবং ডিজাইন নিয়ে কাজ চলছে। ছুটি থাকলেও এ নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী।

মূলত, করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্কটের মধ্যে পিবি-৫৬০ মডেলের ছোট ভেন্টিলেটরের নকশা, সফটওয়্যারসহ সত্ত্ব উন্মুক্ত করে দেয় বিশ্বখ্যাত মেডিকেল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেডট্রোনিক, যার প্রধান বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ওমর ইশরাক। তিনি ইনটেলের চেয়ারম্যানও। তার প্রতিষ্ঠানের নকশা ও সফটওয়ারসহ অন্যান্য সব সহায়তা নিয়ে এখন বিশ্বের সব দেশেই দ্রুত ভেন্টিলেটর তৈরি কাজ চলছে। ওই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও ভেন্টিলেটর তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি তৈরির বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। এরমধ্যে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, পিসিবি তৈরি, সংযোজন, কেসিং, টেস্টিংসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে