১০ টাকা কেজি দরের চালে সরকারের ৩৪ টাকা ভর্তুকি

0
32


১০ টাকা কেজি দরের চালে সরকারের ৩৪ টাকা ভর্তুকি

দেশে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের জন্য সপ্তাহে তিনদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে বিশেষ ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা ১০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে পারবেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মিলে পুরো কর্মসূচি দেখভাল করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এসংক্রান্ত নীতিমালায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বৃহস্পতিবার ভোরের কাগজকে বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে আগামী রবিবার থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হবে। জেলা ও বিভাগীয় শহরে এ কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। গ্রামে আগে থেকেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম চলছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়টায় এরকম কর্মসূচি শহরে চালু না থাকায় ওএমএস এর মাধ্যমে চাল বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হলো।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস পরিস্থতিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন- বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পাঁচদিন পর জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির ঘোষণা দিয়ে একটি নীতিমালা জারি করল। এখন স্বল্পমূল্যের এই চাল নিয়ে মাঠে নামবেন ওএমএস ডিলাররা।

বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নীতিমালা জারি করে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পয়েন্টে সপ্তাহের প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিশেষ ওএমএসের মাধ্যমে এই চাল বিক্রি করা হবে। তবে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ডিলাররা ৮ টাকা দরে প্রতিকেজি চাল কিনে ১০টাকা দরে বিক্রি করবেন। উল্লেখ্য, শহরে ৩০ টাকা কেজি দরে ওএমএস কার্যক্রমের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রায় এক লাখ টন চাল বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার টন বিক্রি হয়েছে। ৪৩ টাকা কেজি দরে কেনা এই চালে ৩৪ টাকা ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করবে সরকার। এর জন্য সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত আরও ৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাজধানীর প্রতি কেন্দ্রে দৈনিক তিন টন এবং দেশের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে দুই টন করে চাল বিক্রি করা হবে। প্রতি পরিবার থেকে মাত্র একজন জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে একজন ক্রেতা সপ্তাহে একবার ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন। কেন্দ্রগুলো যাতে বস্তিসহ নিম্নবিত্ত লোকজন যে এলাকায় বাস করেন সেখানে স্থাপন করা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটিতে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয়লিঙ্গ সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সব কর্মহীন মানুষ এই সুবিধার আওতায় চাল পাবেন।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে