১০ দিনে রেলের আয় ৪ কোটি

0
38


১০ দিনে রেলের আয় ৪ কোটি

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যখন সড়ক পরিবহন প্রায় বন্ধ সেখানে সারা দেশে পণ্য পরিবহন সেবা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আগে প্রতিদিন গড়ে ৪টি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করলেও গত ২৪ মার্চ থেকে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারা দেশের সর ধরনের পণ্য পরিবহরে তার বহর বাড়িয়েছে।

২৪ মার্চ থেকে সারা দেশ লকডাউনে যাবার পরে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মালামাল সারা দেশে পৌছে দেয়াসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যিক চাহিদা সম্পন্ন এলাকায় পণ্যবাহি ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছে বলে রেলসূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পণ্য পরিবহনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পণ্য পরিবহন থেকে গত ২৪ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত রেলের এ খাতে আয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৪ থেকে ২৮ মার্চ ৪ দিনে আয় করেছে ২ কোটি টাকা, আর ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ দিনে আয় হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হওয়া তেল, কন্টেইনারের বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী সারাদেশে পৌঁছে দিয়ে ১০ দিনে এ আয় করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ের পরিবহণ বিভাগ সূত্র জানায়, একটি মালবাহী ট্রেন থেকে রেলের আয় হয় ১০ লাখ টাকা। ২৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ৫ থেকে ৬টি ট্রেন চালায়। এরমধ্যে তেল ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পরিবহনে তিনটি, বাকি তিনটি কন্টেইনার বহন করতো। তবে রাজধানীর কমলাপুর ডিপোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পণ্য সামগ্রি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি পৌছে দেবার কাজ চলছে। তেল, গম, চাল ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে তিনটি ট্রেন সিলেট, শ্রীমঙ্গল, তেজগাঁও, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বগুড়া, রংপুর অভিমুখে চলাচল করছে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানান, দেশের করোনা সংক্রমণ ঠোকাতে সারা দেশে যখন সড়ক পরিবহণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে সেখানে রেলওয়ে পণ্য পরিসেবা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে দিনে গড়ে ৩-৪টি কন্টেইনর চলাচল করলেও এখন শুধু পূর্বাঞ্চলেই ৬টি কন্টেইনারবাহি ট্রেন চলাচল করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাল সারা দেশে যাচ্ছে রেলের মাধ্যমে। যার ফলে দেশের পণ্য সেবা কিছুটা নিশ্চিত হচ্ছে। তবে প্রয়োজনে রেলওয়ে সবজি, মাছ, তেল, ডিম, খাদ্যসামগ্রিসহ সব ধরনের পণ্য পরিবহণ করবে। এ বিষয়ে রেলের আয়ও যেমন বাড়ছে তেমনি দেশের পণ্য সেবা নিশ্চিত হচ্ছে।

সতর্কতার বিষয়ে তিনি জানান, মালবাহি ট্রেনগুলোতে যারা কাজ করছে তারা পিপিইসহ সব ধরনের প্রতিশোধক নিয়েই কাজ করছে। এছাড়া রেলের কর্মরত সব কর্মীকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কাজ করার নির্দেশনা ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

পণ্য পরিবহনের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, প্রতিদিন আগে গড়ে ৩-৪ টি মালগাড়ি চলাচল করলেও বর্তমান ক্রাইসিস মুহূর্তে তা বেড়ে ৬টি করা হয়েছে। আইসিডিতে কন্টেইনার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া কন্টেইনার পরিবহন কিছুটা মন্থর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এ সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমরা আরো বেশি কন্টেইনার বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে