আসন্ন বাজেটে সিগারেটের সর্বনিম্নমূল্য ৪৭ টাকা করার দাবি

0
53


আসন্ন বাজেটে সিগারেটের সর্বনিম্নমূল্য ৪৭ টাকা করার দাবি

আসন্ন বাজেটে সিগারেটের আরেকটি মূল্যস্তর বৃদ্ধি দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশাল হুমকি। প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৪৭ টাকা নির্ধারণের দাবী।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট মহামারীতে সরকারের অনেক কর্মকর্তা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে মৃত্যু বিপননকারী তামাক কোম্পানীগুলোর বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের কতিপয় কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজোশে কমদামী সিগারেটের জন্য চলমান সর্বনিম্ন স্তরের (প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ৩৭টাকা) নিচেও আরো একটি নতুন স্তর চালুর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

যেখানে সরকার তামাকের ব্যবহার কমাতে প্রতিবছর সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য বৃদ্ধি করে চলছে সেখানে নতুন আরো একটি স্তর চালুকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি। এ ধরণের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে অপর দিকে কমদামে সিগারেটের সহলভ্যতা সৃষ্টির জন্য তামাকের ব্যবহার আরো বাড়বে। তাহলে, বিগত ১৫ বছরের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বিফলে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিবছর তামাকের উপর করবৃদ্ধির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের চেয়ে বর্তমান বাজেটে সিগারেটের মূল্য কমে গেলে চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক আচরণ প্রকাশ পাবে যা সরকারকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।

এসডিজির ৩ নম্বর লক্ষ্য অর্জনে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগ ৩০শতাংশ এ কমিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ হল তামাকের ব্যবহার। গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার লোকের অকালমৃত্যু হয়েছে যা এ সময়ে সকল মৃত্যুর ১৩.৫ শতাংশ, পাশাপাশি তামাক জনিত ব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে যা বিগত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ১.৪ শতাংশ। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর তামাকের উপর উচ্চহারে করারোপ, মূল্যবৃদ্ধি, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী স্থাপন, আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় (২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গঠন) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিগারেটের উপর উচ্চহারে করারোপসহ বিগত ৫বছর ধরে সিগারেটের নূন্যতম মূল্য বাড়িয়ে চলেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সিগারেটের ব্যবহার কমতে থাকবে এবং সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির সুফল বয়ে আনবে। তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহের দাবী ও সরকারের সদিচ্ছার ফলে গতবছর সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ৩৭টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সরকার সিগারেটের করকাঠামোর জটিল স্তরপ্রথা (লো, মিডিয়াম, হাই, প্রিমিয়াম) বাতিল করার জন্যও সক্রিয় অবস্থান রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ধীরে ধীরে স্তরপ্রথাকে কমিয়ে এনে সকল সিগারেটের জন্য একটি সরল ও কার্যকর কর নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট প্রতি বছরের ন্যায় আসন্ন বাজেটে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ৪৭ টাকা নির্ধারণ এবং সিগারেটের করকাঠামোর ৪ স্তরকে কমিয়ে ৩ স্তরে আনার জন্য জোরালো দাবী জানাচ্ছে। এমতাবস্থায়, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও প্রধামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), এলায়েন্স ফর এফসিটিসি ইমপ্লিমেন্টেশন বাংলাদেশ (এএফআইবি) এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা বিরোধী কাউন্সিল (মানবিক) অবিলম্বে সিগারেটের করকাঠামোর চলমান ৪ স্তরপ্রথাকে (লো, মিডিয়াম, হাই, প্রিমিয়াম) কমিয়ে ৩ স্তরপ্রথায় (লো, হাই, প্রিমিয়াম) রূপান্তরিত করা এবং আসন্ন বাজেটে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ৪৭ টাকা নির্ধারনের জোর দাবী জানাচ্ছে।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে