এবার ‘এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপের’ নকল এন-৯৫ মাস্ক

0
28


এবার ‘এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপের’ নকল এন-৯৫ মাস্ক

বেসরকারি স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআইয়ের পর এবার নকল ও নিম্নমানের এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাম উঠে এলো ‘এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপের’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএডি) থেকে হঠাৎ করেই মাস্ক আমদানির লাইসেন্স নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের নকল মাস্ক দেশে এনেছে। আর কেন্দ্রীয় ঔষধাগার এন-৯৫ আদলের নিম্নমানের মাস্ক দেখা গেছে।

করোনা মহামারির বিপর্যয়ের মধ্যে মাস্কের চাহিদা হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় শুধু এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপই নয় আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান মাস্ক ব্যবসায় নেমেছে। আর তাদের দিয়েই নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে।

নন-ওভেন, কৃষিজাত প্রোডাক্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপ। তাদের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা তালিকায় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম আমদানি করার কোনো রেকর্ডই নেই। অথচ হঠাৎ করেই কদিন আগে মাস্ক আমদানির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে তারা লাইসেন্স পেয়ে যায়। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই মাস্ক আমদানির কার্যাদেশও পেয়ে যায়।

বিশেষ একটি সূত্রের তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপের সরবরাহ করা মাস্কের প্যাকেটে উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে চীনের নাম দেখা গেছে। তবে ওয়েবসাইটে দেখা যায়, চীনের একটি কোম্পানির হুবহু নকল করে সেগুলো তৈরি করা। মাস্কগুলো দেখতে অবিকল এন-৯৫ এর মতো, তবে নিম্নমানের। মাস্কের গুণগত মান যাচাইয়ের যে ৫টি ল্যাব টেস্ট করতে হয় সেখানেও ফাঁকি দিয়েছে এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপ।

এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপ

একাধিক মাস্ক আমদানিকারকের দেয়া তথ্যমতে, জেএমআই-এর মাধ্যমে যেভাবে নকল মাস্ক ছেড়েছিল সিএমএডি, এবারও তারা সেই কাজই করেছে। চীন থেকে আনা প্রতিটি ৯৫ মাস্কের কেবল আমদানি খরচ পড়ে সাড়ে ৮০০ টাকা। সেখানে ৫০০ টাকায় অখ্যাত এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপ মাস্ক দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়নি হঠাৎ উদয় হওয়া মাস্ক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপ। তারপরও তারা ঔষধ প্রশাসনের ছাড়পত্র নিয়ে মাস্ক সরবরাহ করেছে সিএমএসডিতে। সেখানেও উল্টো ঘটনা ঘটেছে। ৫টি ল্যাব টেস্টের মধ্যে মাত্র একটি ছিলো এরিস্টোক্র্যাট গ্রুপের। বাকি ৪টি টেস্টের রিপোর্ট নেয়নি তারা।

করোনা মহামারি প্রতিরোধে সম্মুখ যোদ্ধারা এসব নকল বা নিম্নমানের মাস্ক পরলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। এসব মাস্ক পরে করোনার চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে একসময় আর চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, দেশে করোনা প্রকোপের মধ্যে নকল ও নিম্নমানের এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই গ্রুপের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা ও ঘটনা তদন্তে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট জমা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির।

এনএম



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে