কার ভাগ্যে ছিঁড়বে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শিকে

0
31


কার ভাগ্যে ছিঁড়বে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শিকে



ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর আকস্মিক মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। এই পদের জন্য বেশ কজনের নাম আলোচিত হলেও রুহুল আমিন মাদানীর সম্ভাবনা বেশি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

মাত্র দেড় বছরের দায়িত্ব পালনে বেশকিছু সফলতাও দেখিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের মসজিদগুলোতে সীমিত আকারে নামাজ আদায়ের বিষয়ে আলেম সমাজের সব পক্ষকে রাজি করানো যখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলতা দেখিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ। আলেম-ওলামাদের সঙ্গে তার দফায় দফায় বৈঠকের ফলশ্রুতিতেই দেশের মসজিদগুলোতে সীমিত আকারে নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছিল। সেইসঙ্গে রমজান মাসের তারাবি ও ঈদুল ফিতরেও সরকারি বিধি মেনে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া আসন্ন হজ হবে কিনা বা হলেও তা কীভাবে নির্বিঘ্নে করা যায়, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছিলেন নিয়মিত। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ জুন রাতে মৃত্যুবরণ করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ। এর আগে একাধিকবার আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সফলতার সঙ্গে। এ সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সম্পর্কোন্নয়ন ও কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি আদায়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।
আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক পদ ও সরকারের মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী যিনি হবেন, তাকে অবশ্যই সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। বিশেষ করে নানা মত ও পথে বিভক্ত দেশের আলেম সমাজকে যথাসম্ভব ঐক্যবদ্ধ করে সরকারের অনুক‚লে রাখা এখন খুবই গুরুত্ব বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে সব পক্ষের আলেমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কোন্নয়নের জন্য একজন অভিজ্ঞ ও মেধাবী ব্যক্তিকেই এই পদে দেখতে চায় সবাই।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা, শেখ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর এখন কে হচ্ছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন জামালপুরের সাবেক সাংসদ মাওলানা নুরুল ইসলাম। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর মারা যান তিনি। ২০০৯ সালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন পটুয়াখালীর সাংসদ মো. শাহজাহান মিয়া। ২০১৪ সালে দলটির প্রবীণ নেতা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান টেকনোক্রেট কোটায় ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও গত বছর মারা যান। ২০১৯ সালে চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে টেকনোক্রেট কোটায় শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা চার জনের মধ্যে তিন জনই এখন প্রয়াত। আর শাহজাহান মিয়া বর্তমানে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় ৮১ সদস্যের কমিটির মধ্যে এখনো যে কয়েকটি পদ বাকি আছে, সেগুলোর মধ্যে ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের পদটিও রয়েছে। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের পদটি এখন অনেক গুরুত্ব বহন করে। সব পক্ষের আলেমের সঙ্গে দল ও সরকারের সমন্বয় করতে পারবেন এমন একজন ব্যক্তিকেই এই পদে দায়িত্ব দেয়া হবে। তবে সবকিছুর এখতিয়ার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কাকে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেবেন, সেটা তিনিই ভালো জানবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যদের থেকেই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে রেখেই একজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে যাদের নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। তিনি ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। দলটির কেউ কেউ বলছেন তিনিই হতে পারেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। আলোচনায় আরো আছেন জামালপুরের সাংসদ ফরিদুল হক খান, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, সাবেক ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া, শওকত হাচানুর রহমান রিমন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এখনো প্রধানমন্ত্রী নিজেই আছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শেখ আবদুল্লাহ দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন করে এই পদে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে কি না, সে এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যেহেতু এখন সংসদের বাজেট অধিবেশন চলছে। তাছাড়া ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এসব শেষ হলেই হয়তো প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে