খন্দকার হলেই মুশতাকের আত্মীয় হয়ে যায় না

0
41


খন্দকার হলেই মুশতাকের আত্মীয় হয়ে যায় না

মুখ খুললেন ডা. ফেরদৌস খন্দকারের মা

চিকিৎসক ছেলে ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যখন তর্ক-বিতর্ক আর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে তখন মুখ খুলেছেন তার মা আনোয়ারা বেগম খন্দকার। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় বাড়ি আর নামের সঙ্গে খন্দকার হলেই কেউ বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মুশতাক ও কর্নেল রশিদের আত্মীয় হয়ে যায় না। আমার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারে, আর বাবার বাড়ি জেলার মুরাদনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। দাউদকান্দির খুনি মুশতাক ও চান্দিনার খুনি কর্নেল রশিদের পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এছাড়া আমার এক ছেলে, ২ মেয়ে এবং ৫ ভাই জীবিত আছেন। তাদের কারোরই ওই সব খুনি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তবু কেন আমার ছেলেকে নিয়ে এত বিতর্ক? এ বিতর্ক কারা করছে? কেনই-বা করছে? তাদের উদ্দেশ্য কী, কিছুই জানি না। করোনা মহামারির সময় নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসাই কি আমার ছেলের অপরাধ?’

স্বাধীনতার পক্ষের ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিবার উল্লেখ করে ডা. ফেরদৌস খন্দকারের মা আনোয়ারা বেগম খন্দকার বলেন, আমার ৬ ভাই। এদের মধ্যে ২ ভাই খোরশেদ আনোয়ার ও রেজাউল করিম বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া রয়েছেন টেক্সাসে মনজুর মোর্শেদ, নিউইয়র্কে আবেদ মনসুর (ফার্মাসিস্ট), বোস্টনে ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাক আহমেদ, নিউইয়র্কে সাখাওয়াত হোসেন (ব্যবসায়ী)। তাদের মধ্যে ৫ জন জীবিত আছেন। তিনি বলেন, কেউ হয়তো ভাবছে, আমার ছেলে দেশে এসে মানুষের জন্য কাজ করলে কুমিল্লার রাজনীতিতে তাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে আমাদের পরিবারকে বিতর্কিত করে ফায়দা লোটার জন্যই একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের ডা. শাহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী ফেসবুকে মন্তব্যে উল্লেখ করেন, সে (ডা. ফেরদৌস খন্দকার) আমার রুমমেট। আমার চেয়ে বেশি কে জানে তাকে, পাশাপাশি আমি ও সে দুজনই কুমিল্লার। সে একজন পিউর ছাত্রলীগার এন্ড নাউ আওয়ামী লীগার।……’
জানা যায়, ডা. ফেরদৌস খন্দকার করোনা মহামারি প্রতিরোধে দেশের টানে মানুষের সেবার জন্য হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে সুদূর নিউইয়র্ক থেকে এসেছিলেন। মানুষের সেবাই ছিল তার লক্ষ্য। গত ৭ জুন রবিবার বিকালে তিনি কাতার এয়ারওয়েজের চার্টার্ড ফ্লাইটের একটি বিমানে ঢাকা বিমানবন্দরে এসে নামার পর তাকে রাজধানীর বনানীর নিজ বাসায় যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে হজ ক্যাম্পের কাছে ব্র্যাক সেন্টারে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে আমেরিকা মেডিকেল সেন্টারের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার সনদ দেখানোর পরও কর্তৃপক্ষ তাকে বাসায় যেতে দেয়নি। এতে ডা. ফেরদৌস বিস্ময় প্রকাশ করেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘বুক ভরা আশা নিয়ে এসেছিলাম মা, তোমার পাশে থাকব বলে। মনে হয় এয়ারপোর্ট থেকেই অজানা উদ্দেশ্যে সব শেষ করে দিল ওরা।’
এদিকে ডা. ফেরদৌস খন্দকার বাংলাদেশে আসছেনÑ এমন খবর প্রচারের পর থেকেই একদল লোক ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার শুরু করে। তাদের অভিযোগ, ডা. ফেরদৌস খন্দকার কুমিল্লার দাউদকান্দির খুনি মুশতাকের আপন ভাগিনা এবং চান্দিনার খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই। বিমানবন্দরে নেমেই তিনি এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুকে তার জবাব দিয়েছেন। জবাবে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ। দেশে এসেছিলাম নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনা নিয়ে সবার পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে। তার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতেও আমি পিছপা হইনি। যখন ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি দেশে এসেছি, তখন একদল লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, আমি নাকি খুনি খন্দকার মুশতাকের ভাগিনা কিংবা খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই। অথচ পুরো বিষয়টি কাল্পনিক। আমার বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারে। কুমিল্লায় বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের বাড়ি। কুমিল্লা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য জেলা। কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খুনি মুশতাকের ভাতিজা কিংবা কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই হয়ে যায় না। আমি স্পষ্ট করে বলছি, এই দুই খুনির সঙ্গে আমার পারিবারিক কিংবা আদর্শিক কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমি তাদের চরম ঘৃণা করি। ফলে যারা এই খারাপ কথাগুলো ছড়াচ্ছেন, বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কারÑ ভালো কাজে বাধা দেয়া। এটা অন্যায়। আমি তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রমাণের জন্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি। যদি মনে করেন আমার সেবা আপনাদের দরকার, তাহলে পাশে থাকুন। এর আগে আরেকটি স্ট্যাটাসে ডা. ফেরদৌস লেখেন, ‘জানি না কেন আমাকে নিয়ে এসব অপপ্রচার চলছে। আমি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আত্মীয় না, আমার কোনো আত্মীয় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আত্মীয় না। আমি এমপি বা মিনিস্টার হতে আসিনি, আমি চেয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করতে। আমার শিক্ষা এবং মেধা মানুষের কাজে লাগাতে। সেটা যদি অপরাধ হয় আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করবেন না। এটা আমার প্রাপ্য না।’
এদিকে ডা. ফেরদৌস খন্দকারের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ডা. ফেরদৌস খন্দকারের বাড়ি জেলার দেবীদ্বার, তার নানার বাড়ি জেলার মুরাদনগর এবং খন্দকার মুশতাকের বাড়ি দাউদকান্দি ও খন্দকার রশিদের বাড়ি চান্দিনায় নানাভাবে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। কিন্তু মুশতাক ও রশিদের পরিবারের সঙ্গে ডা. ফেরদৌসের পরিবারের কোনো আত্মীয়তা কিংবা যোগাযোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডা. ফেরদৌস খন্দকার পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। সে সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি মূলত, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে রোগী দেখতেন। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রশংসিত হন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। এবার তিনি দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফেরেন। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে ঘিরে উঠছে নানা তর্ক-বিতর্ক।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে