জেল থেকে বেরিয়ে ফের জাল টাকার ব্যবসা শুরু

0
11


জেল থেকে বেরিয়ে ফের জাল টাকার ব্যবসা শুরু

সাত মাস আগে জেল থেকে বের হয়ে আবারো পুরনো পেশাতে ফিরে আসে এ চক্রের মূলহোতা সেলিম (৪০)। লোভের ফাঁদে পা দিয়ে মনির (৪৫) নামের এক উবার চালকও তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তার বাড়িতেই জালটাকা ছেপে বের হচ্ছে এমন সময় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার জালটাকা ছাড়াও নকল ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিও উদ্ধার করা হয়। অভিজাত বসুন্ধরা এলাকায় বাসাভাড়া নিয়েছিল যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল চক্রটি। এ চক্রের আরো কয়েকজন সদস্যকেউ আটক করা হয় সে সময়।
রাজধানীর মিরপুর ও বসুন্ধরা থেকে বিপুল পরিমাণ জালটাকা ও রুপি তৈরির মেশিন এবং কাঁচামালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গতকাল সোমবার ভোরের কাগজকে এসব তথ্য জানান অভিযানের নেতৃত্বদানকারী র‌্যাব-২ এর মেজর আরেফীন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল একটি চক্র ঈদকে সামনে রেখে জালটাকা ও রুপি তৈরি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার রাত ১২টা থেকে গতকাল সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত মিরপুর পল্লবী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেলিম ও মনির ছাড়াও মঈন (৪০) রমিজা বেগম (৪০), খাদেজা বেগম (৪০) ও শাহীনুর ইসলামসহ (১৫) মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় জালটাকা ও রুপি বানানোর জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ডাইস, কাটার ও প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ জালটাকা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল (কাগজ, কালি, জলছাপ দেয়ার সমাগ্রী) উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার সেলিম সাত মাস আগে জেল থেকে বের হয়ে আবারো পুরনো পেশাতে ফিরে আসে। জালটাকা বানানোর অভিযোগে র‌্যাব-২ এর হাতে এর আগেও একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এবার বের হওয়ার পরে তার সঙ্গে পরিচয় হয় উবার চালক মনিরের। সখ্যতা গড়ে উঠলে সেলিম তাকে জালটাকা তৈরির কাঁচামাল এনে দিতে অনুরোধ করে। তবে মনির জানতো না সে কি আনছিল তার জন্য। এর মধ্যে সেলিমের বাড়িওয়ালার সন্দেহ হলে বাসায় কি করছেন এত কেমিক্যালের গন্ধ কেন জানতে চাইলে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন তিনি। এর মধ্যে সেলিম সব খুলে বলে মনিরের মিরপুর থানাধীন ১২/ই ব্লক ৬২ নাম্বার বাসায় সাবলেট হিসেবে উঠে যায়। মনির লোভের ফাঁদে পা দিয়ে উবার চালক থেকে জালটাকার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মিরপুর ছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা জি-ব্লকে একটি বাসাভাড়া নেয় তারা। ওই দুই বাসাতেই অভিযান চালিয়ে আনুমানিক চার কোটি ১ হাজার টাকার জালটাকা ও ভারতীয় ৫০০ ও ২০০০-এর আনুমানিক ৪০ লাখ নকল রুপি উদ্ধার করা হয়। আটক মঈন টাকা ছাপানোয় সহযোগিতা করত মনিরকে। রমিজা বেগম সেলিমকে কাগজে আঁঠা লাগানোর কাজে সহায়তা করত ও প্রয়োজনীয় ফুটফরমাশ খাটত। খাদিজা বেগম ও শাহীনুর সাদা কাগজে নিরাপত্তা সুতার জলছাপ দেয়ার কাজ করত। মেজর আরেফীন বলেন, ১ লাখ টাকার জালটাকা ১৫-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এ বিপুল পরিমাণ জালটাকা আসন্ন কুরবানি ঈদে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। জালটাকা চক্রের একটি বিশাল সিন্ডিকেট দেশের অভ্যন্তরে কাজ করছে। তবে বেশিরভাগ সময় এদের পরিচয় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে; কারণ এরা ফোন নাম্বার ও জায়গা বারবার পরিবর্তন করে। দেখা না করে আলাদা-আলাদা নাম্বার দিয়ে অর্ডার করে একেক সময় একেক জায়গা থেকে ডেলিভারি নেয়।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে