বাজেট অধিবেশনে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক, প্রবেশে কড়াকড়ি

0
25


বাজেট অধিবেশনে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক, প্রবেশে কড়াকড়ি

আসন্ন বাজেট অধিবেশনের এমপি ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাস ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বৈঠক করেছে সংসদ সচিবালয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পর্যালোচনা করার জন্য বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাজেট অধিবেশনের প্রস্তুতিমুলক এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী ১০ জুন বুধবার থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। অধিবেশন শুরুর পরের দিন অর্থাৎ ১১ জুন বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন হবে। এটা পাস হবে ৩০ জুন।

এ অধিবেশনটি এমন সময় শুরু হচ্ছে যখন দেশে করোনা সংক্রম দ্রুত বাড়ছে। সে কারণে অধিবেশনে উপস্থিত হওয়া মন্ত্রী, এমপি, তাদের পিএস, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শাখার গোয়েন্দা বাহিনীসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য ঝুকি হতে পারে। সে কারনে যত সম্ভব স্বল্প উপস্থিতির মধ্যে অধিবেশন শুরু ও শেষ করা যায় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। তাছাড়া এমপিদের পিএস বা ড্রাইভারদের মাধ্যমে যাতে করোনা সংক্রমণ না ছড়াতে পারে সে জন্য তাদের করোনা টেস্ট করানো যায় কিনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সাহচর্যে যারা থাকবেন তাদের বাধ্যতামূলক করোনা টেস্ট করানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

অধিবেশনের সময় জনসমাগম এড়াতে সাংবাদিক ও ভিজিটর পাশ না দেবার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। এছাড়া গাড়ি রাখার স্থানে যাতে দুরত্ব বজায় রেখে মন্ত্রী এমপিদের গাড়ি রাখা হয় ও ড্রাইভারদের নিজ নিজ গাড়িতে অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চত করার কথাও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ চত্তরে প্রবেশের সব কটি রাস্তা বা গেটে কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি নিশ্চত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অধিবেশনে সব কর্মীদের না আসতে বলা হবে। বিশেষ করে ঢাকার যেসব এলাকা ইতোমধ্যে করোনা রেড জোন হিসেবে ধরা হচ্ছে সে সব এলাকায় বসবাসরত কর্মী এবং যারা ছুটিতে ঢাকা ত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ছিলেন তাদের করোনা টেস্ট না করে সংসদে ডিউটি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাক্স ও উপযুক্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে সবাইকে সংসদে প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে। আর সংসদ ভবনের চারপাশে জনসমাগম ও গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ডিএমপি। মন্ত্রী-এমপিদের পিএস বা সঙ্গে কোন ব্যক্তিকে না আনার অনুরোধ জানানোর কথাও উঠেছে বৈঠকে। অনাকাঙ্খিত কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশে করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এ বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিবেশন চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নেয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।

বৈঠকে গুরুত্ব দেয়া হয়- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সংস্পর্শে আসতে পারেন এমন ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার নেগেটিভ রেজাল্ট থাকতে হবে। পরীক্ষার পর থেকে তাদের কোয়ারেন্টাইনেও থাকতে হবে। থাকছে আরও কঠোর বিধিনিষেধ।

এই উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস, ফায়ার সার্ভিস, বিদুৎ, গণপূর্ত বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে