মিরপুরে বেশি, আমিনবাজার ও আমলাপাড়ায় কম

0
8


মিরপুরে বেশি, আমিনবাজার ও আমলাপাড়ায় কম

দেশে করোনা সংক্রমণের ‘হটস্টপ’ বলা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাকে। দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিত এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জনের মধ্যে কেবলমাত্র ঢাকা শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৬১ জন। এরমধ্যে ঢাকার মিরপুরে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেবলমাত্র মিরপুর এলাকাতেই শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৪২৭ জন করোনা সংক্রমিত রোগী। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম আমিনবাজার ও আমলা পাড়ায়। ওই দুই এলাকায় দুই জন করে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢাকার করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য (২৯ জুন পর্যন্ত) বিশ্লেষনে এমন তথ্যই পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৫০টি এলাকায় এখনো আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জনেরও কম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই এলাকাগুলো হলো; শাহ আলিবাগ (৩), নয়াপল্টন (৩), হাটখোলা (৩), গোলারটেক (৩), ধোলাইখাল (৩), বুয়েট এলাকা (৩), বাগানবাড়ি (৩), বাদমতলি (৩), তালবাগ (৪), কাজলা (৪), ফরাসগঞ্জ (৪), বেগুনবাড়ি (৪), সেনপাড়া (৫), রুপগঞ্জ (৫), রসুলবাগ (৫), মৌচাক (৫), ইংলিশ রোড (৫) মেরুল (৫) আহমেদনগর (৫), সিদ্দিকবাজার (৬), শঙ্কর (৬), কাঁচপুর (৬), ইন্দিরারোড (৬), গনকটুলি (৬), বকশিবাজার (৬), বিজয়নগর (৬), আশকোনা (৬), আসাদ গেইট (৬), তেজতুরিবাজার (৭), নীলক্ষেত (৭), মাটিকাটা (৭), মিন্টোরোড (৭), বসিলা (৭), দয়াগঞ্জ (৭), তেজকুনিপাড়া (৮), নবাবপুর (৮), মিরপুর-৭(৮), মহোনপুর (৮), মালিটোলা (৮), কুতুবখালি (৮), বাংলাবাজার (৮), রসুলপুর (৯), মীরহাজারিবাগ (৯), কোনাপাড়া (৯), হাজীপাড়া (৯), ফরিদাবাদ (৯)।

একশ’র বেশি কিন্তু দুইশ’র কম রোগী আছে ২০টি এলাকায়। সেই এলাকাগুলো হলো; শের-ই বাংলা নগর(১০৩), চকবাজার (১০৭), কল্যানপুর (১০৯), পল্টন (১১২), রমনা (১১৫), শান্তিনগর (১১৭), বনানী (১২৯), বনশ্রী (১৩০), হাজারিবাগ (১৩৫), শাহবাগ (১৩৬), আজিমপুর (১৩৮), শ্যামলী (১৩৯), ডেমরা (১৪১), আগারগাঁও (১৪৩), আদাবর (১৫৩), বংশাল ( ১৫৬), বসুন্ধরা (১৬২), বাবুবাজার (১৬২), ওয়ারি (১৬৯), গেন্ডারিয়া (১৮৬)। দুইশ’র বেশি কিন্তু তিনশ’র কম রোগী শনাক্ত হয়েছে পাঁচ এলাকায়। এলাকাগুলো হলো, মালিবাগ (২১৯), রাজারবাগ (২৩৮), বাসাবো (২৫০), গুলশান (২৭৫), লালবাগ (২৯৪)। তিনশ’র বেশি কিন্তু চার’শর কম রোগী শনাক্ত হয়েছে ছয়টি এলাকায়। সেগুলো হলো; কাকরাইল (৩১১), বাড্ডা (৩২০), রামপুরা (৩২১), তেজগাঁও (৩৪০), খিলগাঁও (৩৪৩), মগবাজার (৩৬৮)। চারশ’র বেশি কিন্তু পাঁচশর কম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ধানমন্ডিতে (৪৯৫)। পাঁচশ’র বেশি ছয়শ’র কম রোগী শনাক্ত হয়েছে তিন এলাকায়। সেগুলো হলো; মুগদা (৫২১), যাত্রাবাড়ি (৫৪১) ও মহাখালি (৫৭২)। ছয়শ’র বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে মোহাম্মদপুরে (৬৩০)। সাত’শর বেশি রোগী আছে উত্তরায় (৭০৭)।

ঢাকা শহরে কেন রোগীর সংখ্যা বেশি এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মত জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ শুরুর দিকে বিদেশ থেকে আসা অনেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেই ছিলেন। এছাড়া ঢাকার বাইরেও যেসব প্রবাসী থাকেন, তাদের অনেকেই বিমানবন্দরে নেমে প্রথমে কিছুদিন ঢাকাতেই অবস্থান করেছিলেন। সেখান থেকে সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করেছেন। সেখানে লেগে থাকা ভাইরাস, আক্রান্ত ব্যক্তি সিঁড়ির রেলিং, লিফট, এসকেলেটরের মাধ্যমেও অন্য কেউ ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া ঢাকার হাসপাতালগুলোর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে