সিদ্ধান্ত না পাল্টালে কাল থেকে আমরণ অনশন

0
10


সিদ্ধান্ত না পাল্টালে কাল থেকে আমরণ অনশন

সরকারি পাটকল বন্ধ এবং ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে বিদায় করে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন পাটকল শ্রমিকরা। তারা বলছেন, সরকারি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে তারা আমরণ অনশন করবেন। এদিকে সরকারি পাটকলগুলোর শ্রমিকদের আন্দোলনে খুবই বিব্রত সরকারের ঊর্ধ্বতনরা। পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে কয়েক দিন ধরে পাটকল শ্রমিকদের এই আন্দোলন চললেও এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান করতে পারেনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ মিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে শ্রমিক নেতারা বলেন, ৩০ জুনের (আজ) মধ্যে সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে ১ জুলাই থেকে শ্রমিকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্ব স্ব মিল গেটে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবে।

সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক সরদার আব্দুল হামিদ জানান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন, বেসরকারি পাটকল মালিকদের যড়যন্ত্র ও আমলাতন্ত্রর চক্রান্তে ২৫ জুন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সরকারি ২৫টি পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই তাদের এই কর্মসূচি। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে ১ জুলাই থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করবেন শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে পাট শিল্পকে ধ্বংস করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে জেএসডি সভাপতি বলেন, পাট এবং পাট শিল্পকে প্রকৃত সুরক্ষার প্রয়োজনে এগিয়ে নেয়া যখন জরুরি তখন ২৫টি সরকারি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার পর পিপিপির আওতায় পাটকলের আধুনিকায়ন করে উৎপাদনমুখী করা হবে সরকারের এসব ঘোষণা একেবারেই প্রতারণামূলক।

জানা গেছে, বছরের পর বছর ধরে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি পাটকলগুলো লোকসান দিয়ে আসছে। গত সাত (২০১১-১৮) বছরে পাটকলগুলোর লোকসান দাঁড়িয়েছে চার হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনও রয়েছে। ফলে বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায়ই আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। এই মুহূর্তে সারাদেশে চালু ২৫টি পাটকলের ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে