অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সুমনের বক্তব্য অসংলগ্ন

0
8


অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সুমনের বক্তব্য অসংলগ্ন

রাজধানীর শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সুমন বেপারিকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে তিনি ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভেতর ছিলেন সেটাই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে শ্বাসরুদ্ধকর ওই ১৩ ঘণ্টার স্পষ্ট বর্ণনা মিলছে না সুমন বেপারির কাছ থেকে। কখনো বলছেন, ১৩ ঘণ্টাই মৃত্যুর প্রতিক্ষায় দোয়া-দুরুদ পড়ে কাটিয়েছেন। কখনো বলছেন, মাথায় আঘাত পেয়ে পুরো সময়টাই তিনি অচেতন হয়ে ছিলেন, আবার বলছেন একটি রড ধরে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। কিছু সময় পরপর এসব এলোমেলো তথ্য দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধু¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলেও কি তিনি ওই লঞ্চের ভেতর ছিলেন?

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে গতকাল দুপুর ১টার দিকে বেশ কিছু সময় সুমন বেপারির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তখন তিনি বলেন, রাজধানীর বাদামতলীর এলাকায় ফল বিক্রি করেন তিনি। সপ্তাহে ১ বা ২ দিন গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির আবদুল্লাহপুরে থাকেন। বাকি দিনগুলো সদরঘাটে বিভিন্ন নৌকায় রাত কাটাতেন সুমন। বিয়ে না করলেও মা আমেনা খাতুনের টানেই ঘন ঘন গ্রামে যেতেন। সোমবার সকালে গ্রামের বাড়ি থেকেই প্রতিবেশী আরেক ফল বিক্রেতা মাসুমকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। কাঠপট্টি থেকে ৪০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে লঞ্চের নিচ তলার একটি ছিটে বসেন। চোখে কিছুটা ঘুম ছিল। হঠাৎ করেই দেখতে পান অন্য একটি লঞ্চের ধাক্কায় তাদের লঞ্চটি ডুবে যাচ্ছে। এ সময় তিনি নিচ তলাতেই ছিলেন। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।

সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘একপর্যায়ে পানির মধ্যে ডুবে যাই। এ সময় কয়েক ঢোক পানি খেতে হয়। এরপর আল্লাহ আস্তে আস্তে আমাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যান যেখানে পানি ছিল না। পা পর্যন্ত একটু পানি ছিল, আমি সেই পানি দিয়ে ওযু করে দোয়া-দুরুদ পড়েছি। শরীরে যে পোশাক ছিল সেটা ভেসে যাওয়ায় পরনে শুধু গেঞ্জিটা ছিল। একপর্যায়ে গেঞ্জিটা খুলে কোমরে বেঁধে নেই যাতে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা থাকে। পরে রাতে আমাকে উদ্ধার করা হয়।’

বেলা আড়াইটার দিকে হাসপাতালের দোতলায় একটি টেস্ট করাতে আসেন সুমন বেপারি। তখন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আবার কথা হয় তার। এ সময় তিনি ঠিক আগের ঘটনার উল্টো বর্ণনা দেন। সুমন বেপারি বলেন, ‘লঞ্চডুবার সময় যখন সেটি উল্টে যায় তখন আমি কোনো কিছুর সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়ি। এরপর আর কিছু মনে নেই। রাতে হুট করেই বুঝতে পারি আমি পানিতে ভাসছি। পরে উদ্ধারকর্মীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’

সুমন বেপারি টেস্ট করাবেন বলে তার ভাগ্নের কাছ থেকে সবকিছু জেনে নিতে বলেন। পরে তার ভাগ্নে আবুল হোসেন বলেন, সুমন বেপারি তাদের জানিয়েছেন, লঞ্চের ইঞ্জিনরুমের একটি রড ধরে ১৩ ঘণ্টাই মৃত্যুর প্রতীক্ষা করেছেন তিনি।

মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাশীদ উন নবী ভোরের কাগজকে বলেন, সুমন বেপারিকে প্রথম যখন আনা হয় তখন তার হালকা শ্বাসকষ্ট ছিল। তবে এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের বলে দেয়া হয়েছে, প্রয়োজন বুঝে তাকে ছাড়পত্র দেয়ার জন্য। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, কোনো সমস্যা না থাকায় সুমন বেপারিকে যে কোনো সময় ছাড়পত্র দেয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে শ্যামবাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে মর্নিং বার্ড লঞ্চডুবির ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সোমবার রাতে উদ্ধারকাজ চলার সময় অলৌকিকভাবে ভেসে ওঠেন সুমন বেপারি। ফায়ার সার্ভিস বলছে, লঞ্চ ডুবে যাওয়ার সময় ভেতরে জমে থাকা বাতাসের কারণে হয়তো প্রাণে বেঁচে গেছেন সুমন বেপারি।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে