ওয়ারীতে লকডাউনের ঢিলেঢালা প্রস্তুতি

0
22


ওয়ারীতে লকডাউনের ঢিলেঢালা প্রস্তুতি

বসানো হয়েছে নমুনা সংগ্রহের বুথ

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টানতে ৪ জুলাই শনিবার থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ারী থানার এ ওয়ার্ডটিতে লকডাউন বাস্তবায়ন কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছিটাফোঁটাও নেই। রাস্তায় রাস্তায় যানজট, বিভিন্ন পোশাক ও প্রসাধনী দোকানগুলোতেও ভিড় চোখে পড়ার মতো। অনেক বাসিন্দাই জানেন না, কবে থেকে কার্যকর হবে লকডাউন। অনেক ব্যবসায়ী ও পথচারীর মুখে মাস্ক নেই। শ্রমজীবী মানুষেরও একই অবস্থা। সুপারশপগুলোতে ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

ফুটপাতের দোকানদার আউয়াল বলেন, শুনছি লকডাউন হবে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। যদি লকডাউন হয়, তাহলে দোকান বন্ধ থাকবে। আমরা চলব কীভাবে? ফরহাদ হোসেন বলেন, লকডাউন বিষয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। সবাই যে যার মতো করেই চলছে। কাঁচাবাজার ও দোকানপাটগুলোতে ভিড় লেগে আছে আগের মতোই। তবে মাইকিং করা হলে বা প্রশাসন তৎপর হলে এলাকার বাসিন্দারা সচেতন হবেন।

এদিকে যে কয়টি সড়ক লকডাউনের কথা বলা হয়েছে, প্রতিটি সড়কেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সড়কগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ব্যারিকেড তৈরির তেমন কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। তবে করোনার নমুনা পরীক্ষায় ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুথ বসানোর প্রক্রিয়া গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী সারোয়ার হোসেন আলো ভোরের কাগজকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশনায় ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে লকডাউন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছি। এরই মধ্যে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ বসানো হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই (গতকাল) প্রতিটি সড়কের প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখে ব্যারিকেড বসানোর কাজ শুরু হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে; যারা স্বেচ্ছায় কাজ করবেন, মানুষের ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেবেন। কারো চিকিৎসা বা ওষুধের প্রয়োজন হলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা করবেন। আর যারা হতদরিদ্র মানুষ আছেন, তাদের বাসায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমরা বিনামূল্যে খাবারসামগ্রী পৌঁছে দেব। পর্যাপ্ত খাবার মজুদ করছি। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে মাইকিং করা হবে। যাতে এলাকার মানুষ লকডাউনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়নবিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, ৪ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ২১ দিনের লকডাউন কার্যকর হবে। আগের দিন সোমবার বিকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে লকডাউন করার জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাছে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আউটার রোডের মধ্যে টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বলদা গার্ডেন) পর্যন্ত সড়কগুলোতে লকডাউন কার্যকর হবে। আর ইনার রোডের মধ্যে লারমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ারী রোড, র‌্যাঙ্কিন রোড, নবাবপুর রোড লকডাউনের আওতায় থাকবে।

কমিটির সভা শেষে মেয়র সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে বলেন, ওয়ারীর লকডাউন এলাকায় সার্বিকভাবে সবকিছু বন্ধ থাকবে, শুধু ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। ই-কমার্স এসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় যাতায়াত সুবিধার জন্য ওয়ারীর দুটি পথ খোলা থাকবে। বাকি পথগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। এ এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে। নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ থাকবে। সিটি করপোরেশনের মহানগর জেনারেল হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য মীনাবাজার ও স্বপ্নসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে