করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

0
31


করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা। কিন্তু নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ নারী এই সময়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারছে না। স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব কম পাচ্ছে। সীমিত কোর্ট থাকায় নারীরা মামলা দায়ের এর সুযোগ কম পাচ্ছে। প্রয়োজনে যথাযথ সময়ে মামলা না করতে পারায় সহিংসতার শিকার নারীরা দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কোভিড-১৯ ক্রান্তিকালে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি শীর্ষক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

পরিষদের নেত্রীর আরো অভিযোগ করেন, সেবাদানকারী/ বেসরকারী সংগঠনসমূহের কর্মতৎপরতা সীমিত হয়ে পড়েছে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার-সহ সরকারী অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রেও নির্যাতনের শিকার নারীরা আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ থেকে অনেকক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের কাজকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ইতিমধ্যে গৃহীত কর্মকান্ড কম গুরুত্ব পাচ্ছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি তার দায়িত্ব পালন করছেন না। বিভিন্ন জেলা শাখার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমের প্রতিবেদন এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৭৮৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নারী ৪৫৭ জন ও শিশু ৩৩১ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৩০৭ জন নারী ও শিশু। ধর্ষণের শিকার ১২৭ জন নারী ও শিশু ১৮০ জন।

পরিষদের লিগাল এইড পরিচালক এডভোকেট মাকছুদা আখতার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা, ফওজিয়া মোসলেম সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু, যুগ্ম সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম প্রমুখ।

কোভিড -১৯ সংকটকালীন সময়ে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো; কোভিড সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য জরুরীভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহন ও বিনিয়োগ করা, নারী ও শিশুর প্রতি সংবেদনশীলতায় গুরুত্বারোপ করে সকল থানায় নারী ডিউটি অফিসারের কার্যক্রম নিশ্চিত করা, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার পরিধি বাড়ানো, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা, নির্যাতনের শিকার নারী দ্রুততম সময়ে অভিযোগ করার জন্য হট লাইনের কার্যক্রম আরও জোরদারকরাসহ সেবার পরিধি বাড়ানো, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়গুলো ভার্চুয়াল কোর্টের এখতিয়ারে আনা, গুরুত্বপূর্ন পুরানো নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার শুনানি ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে করা।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে