নিম্নমানের ডিজেল আমদানি আর নয়

0
28


নিম্নমানের ডিজেল আমদানি আর নয়

নিম্নমানের ডিজেল আমদানি আর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে ৫০০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেলের পরিবর্তে ৫০ পিপিএম সালফার মান মাত্রার ডিজেল আমদানি করা হবে। এই মানের ডিজেল ব্যবহারে একদিকে পরিবেশ দূষণ ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমবে। যন্ত্রাংশের কর্মক্ষমতাও বাড়বে।

বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ৫০ পিপিএম মানের ডিজেল সরবরাহ করা হবে। অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ১০ পিপিএমের পরিবর্তে এখন ৫০ পিপিএম মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। ভালো মানের ডিজেল সরবরাহ করার পরও এখন ডিজেলের দাম বাড়ানো হবে না। বর্তমান দামেই ক্রেতারা ভালো ডিজেল পাবেন।

বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন দেশ থেকে জি-টু-জি ও টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। তার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সর্বাধিক। অর্থাৎ ৮১ ভাগ ডিজেল আমদানি করা হয়। বিপিসি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে ২৫০০ পিপিএমের পরিবর্তে ৫০০ পিপিএম মান মাত্রার ডিজেল আমদানি করছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নেগোসিয়েশন সভায় অংশ নেয়া জ্বালানি তেল সরবরাহকারী জি-টু-জি প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২০ সাল থেকে ৫০ পিপিএম মান মাত্রার ডিজেল সরবরাহ করার বিষয়ে তাদের মতামত জানায়। এই মতামতের পর বিপিসি ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ৫০ মান মাত্রার ডিজেল সরবরাহের ব্যাপারে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে লিখিত মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ৫টি কোম্পানি জুলাই মাস থেকে ৫০ পিপিএম মান মাত্রার ডিজেল সরবরাহের ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত জানায়। অপরদিকে কুয়েত পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) ৫০ পিপিএম মান মাত্রার ডিজেল উৎপাদন না করায় ১০ পিপিএম মান মাত্রার ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়।

বিপিসি সূত্র জানায়, জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮-এর ৩.১৬.৭ অনুচ্ছেদে জ্বালানি তেলের ক্ষতিকর পদার্থ যেমন- ডিজেলে সালফারের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনার কথা বলা হয়েছে। কম ক্ষতিকারক জ্বলানি ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং যন্ত্রাংশের কর্মক্ষমতা বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে এখন ১০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল ব্যবহার করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এখন ১০ পিপিএম সালফার মানের জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মানের জ্বালানির মূল্য বেশি হয়। জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের পর বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে বিপিসি ৫০০ পিপিএম মানের পরিবর্তে ৫০ পিএিম মানের ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী বিবেচনায় আপাতত ১০ পিপিএম মানের ডিজেল আমদানি না করা থেকে বিরত থাকা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ১০ পিপিএম মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। তবে ৫০০ পিপিএমের পরিবর্তে ৫০ পিপিএম মানের ডিজেল আমদানিতে খরচ বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বাড়লে অনেক সময় সরকার ভর্তুকি দিয়ে ডিজেল বিক্রি করে। ভর্তুকি দিয়েই এখন বিক্রি করতে হবে। চলতি বছরের ৬ মাসে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজলের প্রয়োজন হবে। এতে অতিরিক্ত আনুমানিক ৪৪ দশমিক ৩৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

এদিকে অকটেনের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মানহীন অকেটেনের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে অকটেন সরবরাহকারীরা ভোক্তাদের নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। মানসম্পন্ন অকটেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পেট্টল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে। ওই আবেদনে বলা হয়, ‘নম্বর ৮৭-এর নিচে নয়, এমন মান মাত্রার অকটেন সরবরাহ করা না হলে ক্রয় ও বিক্রয় বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ বিএসটিআই এই মানের অকটেন বিক্রির ওপর সমর্থন জানিয়েছে।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে