মাস্টার, না সহকারী ময়ূরী চালাচ্ছিল কে

0
15


মাস্টার, না সহকারী ময়ূরী চালাচ্ছিল কে

দুর্ঘটনার আগে ময়ূরী-২ লঞ্চটি চালাচ্ছিল কে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সে সময় লঞ্চটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এক শিক্ষানবিশ মাস্টারের হাতে। ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে এমন ধারণা করছেন তারা। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা বেঁচে যাওয়া যাত্রীর সাক্ষ্য নিতে পারেননি নৌ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির সদস্যরা। আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে আবারো সাক্ষ্য নেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বুড়িগঙ্গা থেকে আরো দুই যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪।

তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঘাটে ভেড়ার কিছুক্ষণ আগে থেকে দুই লঞ্চের চালকের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্তিক প্রতিযোগিতা চলছিল। যে কারণে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছিল না। মর্নিং বার্ড লঞ্চটির ভেড়ার কথা ছিল সদরঘাটের ১৩ নম্বর পন্টুনে। তীরের দিকে সরে আসছিল সেটি। আর মর্নিং বার্ডকে বাঁ-দিক থেকে অতিক্রম (ওভারটেক) করে লালকুঠি ঘাটে ভিড়তে গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল ময়ূরী। এ সময় গতি বাড়ায় মর্নিং বার্ডও। ফলে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্য বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি। দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাগুলো জানার চেষ্টা করেছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। তিনি জানান, দুর্ঘটনার শিকার বেশিরভাগ মানুষই মুন্সীগঞ্জ এলাকার। তাই সেখানকার জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে যেন এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তারা কমিটির কাছে এসে সাক্ষ্য দিলে তদন্তটা সহজ হবে।

বিআইডব্লিউটিএর তদন্ত কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে অনেকটা নিশ্চিত, দুর্ঘটনার জন্য দুই লঞ্চের চালকেরই কম-বেশি দায় রয়েছে। তিনি বলেন, যখন ময়ূরী অতিক্রম করছিল তখন যদি মর্নিং বার্ডের চালক গতি কমাত তবে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। আবার মর্নিং বার্ডকে আগে যেতে দিয়ে ময়ূরী ঘাটে ভেড়ার চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা হতো না। তার অর্থ দুই লঞ্চের চালকই কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। তবে এখানে ময়ূরী লঞ্চের চালকের অপরাধই বেশি। কেননা সে পেছন থেকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই সময় দুই লঞ্চেরই গতি বাড়িয়ে দেয়ার কথা তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মো. মনজুরুল কবীর জানান, দুর্ঘটনার পেছনে বৈরী আবহাওয়া, নির্মাণ বা যান্ত্রিক ত্রু টি, মানুষের ব্যর্থতা (হিউম্যান ফেইলিওর) নানা কারণ থাকতে পারে। তবে আমাদের প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ওই দুর্ঘটনার জন্য ‘হিউম্যান ফেইলিওর’ দায়ী। ওই সময় চালকরা সঠিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেননি।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় ময়ূরী একজন শিক্ষানবিশ মাস্টার চালাচ্ছিলেন বলে আমরা শুনেছি। আমাদের পক্ষে এই মুহূর্তে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল, তবে তদন্তে হয়তো পুরো বিষয়টি উঠে আসবে।

এদিকে, গতকাল দুপুর পৌনে ১টার দিকে লঞ্চের ভেতর থেকে এক কিশোরের ও বিকালে ভাসমান অবস্থায় আবদুর রহমানের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুপুরে মর্নিং বার্ডকে তীরের কাছে টেনে আনার পর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। নদীর গভীরে উল্টে থাকা লঞ্চটিকে টেনে তুলতে ১১টি এয়ার লিফটিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। এর একেকটি ব্যাগ ৮ টন ওজন তুলতে পারে। বিআইডব্লিউটিএর ছোট উদ্ধারকারী জাহাজ দূরন্তও এ কাজে যুক্ত ছিল। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিকালে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে