যশোর-৬ উপনির্বাচনে আ.লীগের জয় সুনিশ্চিত

0
19


যশোর-৬ উপনির্বাচনে আ.লীগের জয় সুনিশ্চিত

জাতীয় সংসদ ৯০. যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ জুলাই। এনির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ালেও মাঠে নেই প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। ফলে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদ ৯০, যশোর-৬ আসনটি গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ১৮ জন। এরমধ্যে এক লাখ দুই হাজার একশ ২২ ভোট পুরুষ ভোটার আর নারী ভোটার হলো এক লাখ ৮শ’ ৯৬ জন। ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি এ আসনের এমপি ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এ আসনের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন পত্র জমাদেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান। ২৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। নির্বাচন প্রচারণা যখন তুঙ্গে সেই সময় ২১ মার্চ করোনা ভাইরাসের কারণে নির্বাচন কমিশন যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপনির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।

এরপর করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। বর্তমানে কেশবপুর পৌরসভার ২টি ওয়ার্ড ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে রেড জোন ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। এক পর্যায় গত ৪ জুলাই নির্বাচন কমিশন স্বাস্থ্য বিধি মেনে আগামি ১৪ জুলাই এ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। এরপর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে কেশবপুরের বিভিন্ন হাট বাজারে পথ সভাসহ ব্যাপক গণসংযোগ করে চলেছেন।

এসব পথ সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলার, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন, সহ সভাপতি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের ভিপি সুস্মিতা দে সহ যশোর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলার বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী বক্তব্য রাখছেন । দিচ্ছেন নানা প্রতিসূতি। এদিকে গত ৫ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে করোনা ভাইরাসের মহামারির পরিস্থিতি এবং দেশের বন্যার প্রাদুর্ভাব বিবেচনা করে এ উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন তৎপরতা নেই। এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও নেতাকর্মীদের তৎপরতা নেই বললেও চলে। ফলে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার বলেন, দলের দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। নানা গ্রুপে বিভক্ত কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। দলের প্রতি শ্রম ও ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন। আগামী ১৪ জুলাই ভোটের দিন ভোটাররা শেখ হাসিনার নৌকাকেই বেছে নেবেন। নৌকা হলো উন্নয়নের প্রতীক। বিজয়ী হলে উপজেলাকে উন্নত, আধুনিক, মাদকমুক্ত, বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলা হবে। তিনি আরও বলেন, করোনার দুঃসময়ে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল না। তাই জনগণ তাদের মেনে নিতে পারবে না জেনেই বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন বর্জন করেছে। বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে রেখে এ নির্বাচন কখন মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের জন্যই সংবিধান। তাই জীবনের চেয়ে সংবিধান কখনো বড় হতে পারে না।

জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্তী হাবিবুর রহমান জনান, করোনা ভাইরাসের কারণে এ নির্বাচন নিয়ে ভোটার তেমন আগ্রহ নেই। ভোটাররা কেন্দ্রে ভোট দিতে পারলে তিনি বিজয়ী হবেন। তিনি আরো জানান, কেশবপুরের ৩টি ওয়ার্ডে লকডাউন চলছে। তারপরও তিনি ভোটারদের মাঝে লিপলেট ও মাক্স বিতরণ করে চলেছেন। পাশাপাশি সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন। তিনি ভোট দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূসরাত জাহান বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমোতাবেক প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা প্রশাসনের একত্র হয়ে সুষ্ঠাভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে