সিন্ডিকেটে ভরপুর যশোর শিক্ষা বোর্ড

0
25


সিন্ডিকেটে ভরপুর যশোর শিক্ষা বোর্ড

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্বাচিত সিবিএ‘কে অকার্যকরের পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেনের বিরুদ্ধে। কিছু অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় বোর্ড চেয়ারম্যান নিজেই সিন্ডিকেট প্রধান বলে অভিযোগ করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান।

শনিবার পত্রিকা দপ্তরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন স্থানীয় অসাধু কিছু ব্যক্তির সহায়তায় তদবির করে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারী যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান হিসেবে পদায়ন হয়। তিনি যশোর বোর্ডে চেয়ারম্যান পদে যোগদানের পর থেকে ওই সকল অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। আর সে সিন্ডিকেটের প্রধান চেয়ারম্যান নিজেই। আর তা সফল করতে চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন যশোর শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন নির্বাচিত সিবিএ-কে অকার্যকর করার পায়তারা করছেন।

তিনি তার বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন তার সিন্ডিকেটকে শক্তিশালী করে অবৈধ স্বার্থ চরিতার্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। সে ধারাবাহিকতায় তিনি বোর্ডে কর্মরত নির্বাচিত সিবিএ নেতা ও কর্মীদেরকে চাকুরিচ্যূতির হুমকিসহ হয়রানি মুলক বদলি করছেন।

এদিকে, যশোর সদরের ভাতুড়িয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজে এডহক কমিটির সভাপতি হতে এমপির উপ-আনুষ্ঠানিক পত্রকে (ডিওলেটার) গুরুত্ব দেয়নি শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান। এডহক কমিটির সভাপতি হতে স্থানীয এমপি চাঁচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ফুল এর নাম উল্লেখ করে উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র দিলেও ঘুষ না দেওয়ায় একজন হত্যা মামলার আসামিকে সভাপতি করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জেলা শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা নাসির উদ্দীন বোর্ড চেয়ারম্যানের নামে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন আব্দুর রাজ্জাক ফুলের কাছে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে সভাপতি না করে সদর উপজেলার আলোচিত ইমরোজ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি ও অস্ত্র মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান সেলিম রেজা পান্নুকে সভাপতি করা হয়েছে।

বোর্ড চেয়ারম্যান

এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক ফুল লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ভাতুড়িয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের এডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ডিওলেটারের মাধ্যমে তাকে সভাপতি হওয়ার সুপারিশ করেন। ডিওলেটার ভাতুড়িয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর প্রদান করি। যা স্থানীয়দের সমর্থন থাকলেও জেলা শ্রমিকলীগের বহিষ্কৃত নেতা নাসির উদ্দীন বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে সভাপতি বানানোর নামে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি বলেন, টাকা দিয়ে আমি সভাপতি হতে অস্বীকার করলে এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি সেলিম রেজা পান্নুকে সভাপতি বানানো হয়। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসী পান্নুকে সভাপতি করায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান পলাতক রয়েছে। এসকল অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজদের কবলে শিক্ষার পরিবেশ চরম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ, যশোর সদর উপজেলার রুদ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে চুড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদনের জন্য বোর্ডে আবেদন করেন। আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বোর্ড চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে গত ২২ এপ্রিল ৩৭.১১.৪০৪১.৫০১.০১.৬.২০.১৮৪ স্মারকে করে যোগদানের অনুমোতি দেয়। পরবর্তিতে ৭ মে ৩৭.১১.৪০৪১.৫০১.০১.৬.২০.২৪৬ স্মরকে ওই পত্র পুনরায় প্রত্যহার করা হয়। যা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে চেয়ারম্যান তার সিন্ডিকেটের এর মাধ্যমে এ কর্মকান্ড করেছেন। এ ধরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তারা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসার ড. মোল্লা আমীর হোসেনের সমন্বয়হীন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে এ প্রতিবেদকে নানা তথ্য জানিয়েছেন।

চেয়ারম্যানের অনতিবিলম্বে অপসারনের দাবিও জানিয়েছেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচিত নেতা কর্মীরা। একই সাথে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে