অব্যবহৃত চশমার ফ্রেমগুলো চান আতিকা রোমা

0
22


অব্যবহৃত চশমার ফ্রেমগুলো চান আতিকা রোমা

আতিকা রোমা। একজন সাহসী বাইকার। নারীদের বাইক চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে গড়ে তুলেছেন ‘যাবো বহুদূর’ নামের একটি সংগঠন। কাজ করেছেন বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায়। ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার আতিকা এখন চশমার ফ্রেম সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। তবে এই কাজটি রোমা শখের বসে করছেন না। দরিদ্র অসহায় মানুষকে সহায়তা করতেই এই কাজে নেমেছেন তিনি।

ইতোমধ্যে পরিচিতজনদের কাছ থেকে তাদের অব্যবহৃত চশমা যেগুলো তারা ব্যবহার করেন না, মানে এমনি পড়ে থাকে বাসায়, সেই চশমার ফ্রেমগুলো সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন তিনি। যে ফ্রেমগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্লাস লাগিয়ে ব্যবহার করা যাবে। এই ফ্রেমগুলো দাতব্য কোনো চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে দেয়া হবে দরিদ্র মানুষকে। চশমার ফ্রেম নিয়ে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করতে চান আতিকা রোমা। নিজের এই পরিকল্পনা নিয়ে ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন আতিকা রোমা।

কীভাবে এই চিন্তা মাথায় এলো তা জানতে চাইলে আতিকা রোমা বলেন, কয়েকদিন আগে আমি চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। আমি ওয়েটিং রুমে বসে আছি। একটু দূরে বসে ছিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। যাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো তারা দরিদ্র। চোখের সর্বোচ্চ সমস্যা না হলে ডাক্তার দেখাতে আসতেন না। ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ অনুযায়ী টেস্টও করিয়েছেন। কিন্তু ডাক্তার যে আই ড্রপ আর চশমা দিয়েছেন তা কেনার সামর্থ তাদের নাই। তাদের প্রায় দুই মাসের আই ড্রপ আর চশমার ব্যবস্থা করে দিলাম। আর জানালাম আইড্রপ শেষ হলে জানাতে, আমি পাঠিয়ে দেব। দেখলাম তাদের চোখ জলে ভর্তি। নিজেকে সামলাতেও আমার কষ্ট হয়েছিলো।

আরেকটু পেছন থেকে যদি বলি, আমি তখন অনেক ছোট। ছোট বেলা থেকেই আমি চশমা পরি। আম্মা একবার পরিচিতজনদের কাছ থেকে তাদের অব্যবহৃত চশমার ফ্রেমগুলো সংগ্রহ করা শুরু করলেন। প্রায় ৮০টির মতো ফ্রেম সংগ্রহ করা হলো। সেগুলো লায়ন্স ক্লাবের দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে দিয়েছিলেন আম্মা। যেগুলো পরবর্তীতে অনেক মানুষের কাজে লেগেছিল বলে জানতে পারি। ডাক্তারের চেম্বারে সেদিনের ঘটনায় আম্মার ওই কাজের কথাটা মনে পড়লো। চশমার ফ্রেম নিয়ে আমি একটা ক্যাম্পেইন করতে চাই। যে ফ্রেমগুলোতে আবার কাচ ভরে ব্যবহার করা যাবে সেগুলো সংগ্রহ করতে চাই।

যারা চশমা ব্যবহার করেন তাদের উদ্দেশ্যে আতিকা রোমা বলেন, আপনারা যারা চশমা ব্যবহার করেন তাদের অনেকেরই ফ্যাশনের জন্য বা পাওয়ার বদলে যাওয়ায় অনেক চশমা এমনি পরে আছে। আমি সেগুলো সংগ্রহ করতে চাই। কারণ চশমার ফ্রেমের দাম এখন অনেক।

করবেন সাহায্য? আপনাদের অব্যবহৃত চশমার ফ্রেমগুলো দেবেন? এগুলো জমিয়ে দাতব্য কোনো চক্ষু হাসপাতালে দেবো। আপনার চশমায় আর একজন মানুষের দেখতে না পারার কষ্ট দূর হবে। কেউ চাইলে কাঁচের দামও দিতে পারেন। সর্বনিম্ন কাঁচের দাম সম্ভবত ৫ থেকে ৬শ টাকা। আর একটি সংস্থাকে খুঁজে বের করবো যারা পুরাতন চশমায় নতুন কাঁচ ভরে সাহায্য করতে আগ্রহী। কারো এমন পরিচিত কোনো সংস্থার কথা জানা থাকলে সেটিও আমাকে জানানোর অনুরোধ করছি।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে রোমা বলেন, আমি আজ পর্যন্ত যে কাজে হাতে নিয়েছি কোনোদিন পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কারণ মানুষের ভালোবাসা আমাকে কখনো পেছন ফিরে তাকাতে দেয়নি। হতাশ হতে দেয়নি। এক্ষেত্রেও হবে না, নিশ্চিত।

এনএম



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে