এক দশকে ৩ হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যা দাবি বিএনপির

0
30


এক দশকে ৩ হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যা দাবি বিএনপির

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত এক দশকে তিন হাজার মানুষের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে পরিসংখ্যান তুলে ধরে এসব ঘটনার বিচার দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সকালে উত্তরার বাসা থেকে এক ভার্চূয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এদেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এদের অধিকাংশই বিরোধী দলের নেতাকর্মী।

গত ১০ বছর সময়ের মধ্যে জেল কাস্টডিতে মারা গেছে ৭৯৫ জন মানুষ, গুম হয়েছে ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮০৬ জন নারী, ১৯৩৪ জন শিশু নির্যাতিত হয়েছে, ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এক লাখের উপরে রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। সেখানে আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লক্ষের উপরে মানুষকে। এই চিত্র বলে দেয় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে, অর্জিত মহান স্বাধীনতার স্বদেশ আজ মৃত্যু উপত্যকা, জল্লাদের রঙ্গমঞ্চ। আমরা অবশ্যই সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৯৬ জন এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং অথবা কাস্টোডিয়াল ডেথের শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালে হয়ে হয়েছে ৩৮৮ জন, ২০১৮ সালে হয়েছে ৪৬৬ জন, ২০১৭ সালে হয়েছে ১৬২ জন, ২০১৬ সালে হয়েছে ১৯৫ জন।

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হবে না। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা বলতে চাই, ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড ঘটানো বা না ঘটানো পুলিশ বাহিনীর সর্বোপরি পর্যায় থেকে ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। এতো দিন বিএনপির পক্ষ থেকে এটাই বলে আসা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র অস্থিশীল হচ্ছে, মানুষ তার অধিকার থেকে প্রতিদিন বঞ্চিত হচ্ছে। এই সরকারের জনগণের সঙ্গে যে সম্পর্ক নেই এবং তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না, তার প্রমাণ আজকে কোভিড-১৯ এর আগ্রাসনের ফলে যেভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভঙ্গুর হয়ে গেল, যেভাবে মানুষের ন্যূনতম যে অধিকার, স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার, সেই অধিকারটা ধ্বংস হয়ে গেছে। কেউ কোথাও কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না।

দেশের মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আমার ঠাকুরগাঁও জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কোনো চিকিৎসা নেই। তাকে দিনাজপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, সেখানেও কোনো চিকিৎসা দিতে পারেনি। আজকে তাকে ভোরে নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে, প্রাইভেট হাসপাতালে। এখান থেকে বুঝবেন যে, মানুষ কোথাও কোনো স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে