বঙ্গবন্ধু নিজেই ইতিহাসের স্রষ্টা

0
22


বঙ্গবন্ধু নিজেই ইতিহাসের স্রষ্টা

বঙ্গবন্ধুকে অনেকে অনেকভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। কেউ তাকে ইতিহাসের রাখাল রাজা বলে উল্লেখ করেছেন, কেউ তাকে বিবেচনা করেছেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে। কিন্তু এসব কি ইতিহাসের মহামানবের মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট? তিনি নিজেই তো ইতিহাসের স্রষ্টা। যখন বিশ্ব ছিল অশান্ত, উপমহাদেশ ছিল সংক্ষুব্ধ, অবরুদ্ধ মানুষের ওপর চলছে নানাবিধ অত্যাচার; ঠিক তেমনি সময়ে টুঙ্গিপাড়ার এক অজপাড়া গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে তার আবির্ভাব ঘটেছে। ঠিক যেমন দেবকী এবং বাসুদেবের সংসারে আবির্ভাব ঘটেছিল শ্রীকৃষ্ণের।

অর্থাৎ যখন বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর প্রয়োজন পড়ে একজন মহামানবের ঠিক সেইসময়ে মানবত্রাতা হিসেবে একজন মহামানবের আবির্ভাব ঘটে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেও এই ঘটনার ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছেন কতিপয় মানুষের হিংসা-বিদ্বেষ, তিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন একটি অবরুদ্ধ সামাজিক অবক্ষয় এবং সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি সরাসরি তার সামগ্রিক চৈতন্য নিয়ে দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে লড়াকু সেনাপতি হিসেবে।

একজন বঙ্গবন্ধুর আবির্ভাব যদি না ঘটত তাহলে একটা জাতির জন্ম হতো না, একটি সাংস্কৃতিক স্রোতধারার জন্ম হতো না। এই কথা বলছি এই কারণে বঙ্গবন্ধু একটি জাতিসত্তার উন্মেষ নিশ্চিত করেছিলেন। বাঙালিকে বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্থান দিয়েছিলেন এবং বাঙালির মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াইয়ের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

আমরা পৃথিবীতে আর কোনো রাষ্ট্রনায়ক, কোনো রাজনীতিক কিংবা কোনো সমাজ সংস্কারককে এত শক্তিশালীভাবে কখনো দেখিনি কিংবা খুঁজে পাইনি। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসকে নিজে তৈরি করেছেন। তিনি ইতিহাসের স্রষ্টা হয়েছেন। ইতিহাসের ধারাকে পাল্টে দিয়েছেন।

কাজেই আজকের এই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা হবে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান নয়; ইতিহাসের রচয়িতা হিসেবে। মাত্র ৫৫ বছরের জীবনের মধ্যে তিন তিনটি বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে পাশে রেখে সেসব লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন, যেভাবে যিশু খ্রিস্টকে দুবৃর্ত্তদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে, একইভাবে এই মহামানবেরও জীবন সংহার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধু আমাদের অনুভূতি ও অন্তরাত্মায় মিশে আছেন। তিনি প্রবলভাবে মানুষের চেতনায় রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনায় সব সময় ছিল তার দেশের জনগণের ও বিশ্বের মানুষের উন্নতি ও কল্যাণ। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম মহৎ গুণ ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ছিল প্রবল। জাতির পিতার প্রতি আমাদের ঋণ, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অশেষ। বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান লেখক অন্নদাশঙ্কর রায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যথার্থই বলেছেন,

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।
দিকে দিকে আজ অশ্রুমালা রক্তগঙ্গা বহমান
তবু নাই ভয় হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান।’

আবেদ খান : মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক; চেয়ারম্যান, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি), সম্পাদক, দৈনিক জাগরণ।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে