দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে পথিকৃতের ভূমিকায় বিপিসি

0
9


দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে পথিকৃতের ভূমিকায় বিপিসি

বিশেষ সাক্ষাৎকার : রাম চন্দ্র দাস
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) পথিকৃতের ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ছোট-বড় অসংখ্য পর্যটন স্পটে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, দক্ষ জনবল তৈরি ও পর্যটকদের কাক্সিক্ষত সেবা দিয়ে সূচনালগ্ন থেকেই বিপিসি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। করোনা মহামারির কারণে এ খাতের অগ্রযাত্রা থমকে গেলেও তা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। ভোরের কাগজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি তিনি এসব কথা বলেন।

এ খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে এটিকে একটি গতিশীল খাতে পরিণত করতে। যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, করোনার কারণে আসলে আমরা থমকে গিয়েছিলাম। করোনায় বিশে^র যে শিল্পগুলো সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সেগুলোর মধ্যে পর্যটন খাত সবার শীর্ষে। আমাদের যে ভাবনাগুলো ছিল বা যেভাবে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম, তা মাঝপথে অনেকটা থমকে গেছে। তবে আমরা এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করছি। আশার কথা হলো আমরা আবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছি। ‘নিও নরমাল’ পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হচ্ছি।

রাম চন্দ্র দাস বলেন, পর্যটন করপোরেশন মূলত এ খাতের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তবে ব্যবসাই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের অভিভাবক হচ্ছে মন্ত্রণালয়। আমরা সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা পরিচালিত হই। এছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) রয়েছে। যখনই মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কাজের নির্দেশনা আসে, তখন আমরা সমন্বিতভাবেই সেটা বাস্তবায়ন করি। সরকারি-বেসরকারি পর্যটন বাণিজ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিপিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একাধারে কবি, গীতিকার ও শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বিপিসির এ চেয়ারম্যান বলেন, দেশে প্রায় ছোট-বড় ১ হাজার ৭০০টি পর্যটন স্পট রয়েছে। এগুলোকে মানুষের কাছে তুলে

ধরার কাজে বিটিবির সঙ্গে আমরাও যুক্ত আছি। সেখানে পর্যটন সুবিধা তৈরি করা, প্রশিক্ষণ দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করছে করপোরেশন। এলাকাভিত্তিক পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রেও পথিকৃতের ভূমিকায় রয়েছে বিপিসি। তিনি বলেন, এক সময় কক্সবাজার বা কুয়াকাটায় কোনো পর্যটন সুবিধাসহ স্থাপনা ছিল না। বিপিসিই সেখানে প্রথম হোটেল, মোটেল ইত্যাদি নির্মাণ করে। এখন সেসব স্থানে বেসরকারি উদ্যোগে অনেক কিছু করা হয়েছে। কিন্তু শুরুটা মূলত আমরাই করেছি। তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি টুঙ্গিপাড়া, কুয়াকাটা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন স্থানেও পর্যটন সুবিধা ও স্থাপনা নির্মাণ করার কথা জানান তিনি।

রাম চন্দ্র দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী চট্টগ্রামের পার্কি সমুদ্রসৈকতে আমরা পর্যটন সুবিধা নির্মাণ করছি। গাজীপুরের শালনায় পর্যটন কটেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মভূমি নারায়ণগঞ্জের বারদীতে এবং বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজারের কাছাকাছি সুন্দর একটা জায়গা তৈরি করছি। এছাড়া যমুনার পাড়, নাটোরে রানী ভবানীর বাড়ি, সিলেটের লালাখাল, শেরপুরের গজনী, কুমিল্লার জোড়া কানন দীঘি, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করছি আমরা। এগুলো দুই ধরনের জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোটিতে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকছে। আবার কোনোটিতে শুধু ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য বিশ্রাম, টয়লেট, জামা-কাপড় পরিবর্তন ও হালকা পানীয়-খাবারের ব্যবস্থা থাকছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকার চারপাশের নদীকে কেন্দ্র করে পর্যটন সুবিধা তৈরির পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে জানান বিপিসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, পর্যটন কিন্তু একক কোনো মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। এ শিল্পের বিকাশের জন্য অনেকগুলো মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। দরকার দক্ষ জনবল গড়ে তোলা। এছাড়া জনগণের সচেতনতা ও সম্পৃক্ততাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে