পত্রিকায় ‘পাত্র চাই‘ ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটিপতি

0
19


পত্রিকায় ‘পাত্র চাই‘ ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটিপতি

পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিয়ে করে কানাডা/আমেরিকা নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। শুধু এক ভিকটিমের কাছ থেকেই ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এ নারী।

পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিয়ে করে কানাডা ও আমেরিকা নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের অন্যতম হোতা সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌসকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডি ঢাকা মেট্রো এর অতিরিক্ত ডিআআইজি শেখ রেজাউল হায়দার। সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, গত ৬ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় আটক ওই নারী বিজ্ঞাপন দেয় যে, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি সন্তানহীন নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই। যোগাযোগের জন্য ঠিকানা-২৩/২/এ বারিধারা, মোবাইল নং-০১৩০৯২৫৪৯৪২-এ যোগাযোগ করতে বলেন। বিজ্ঞাপনটি দেখে আগ্রহী ব্যক্তি মো. নাজির জেসেন মোবাইলে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে গত ১২ জুলাই গুলশানে থাই সিগনেচার নামীয় রেস্টুরেন্টে দেখা করেন ও প্রাথমিকাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট দেন। পরবর্তীতে আটক সাদিয়া জান্নাতুল ফেদৌস ভিকটিমকে জানায় তার নামে কানাডায় ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা আছে, সেখানে অনেক শীত, তিনি থাকতে পারেন না। তাই টাকাগুলো ভিকটিমের নামে দেশে নিয়ে আসবেন, যা দিয়ে তারা এখানে ব্যবসা করবেন। পরে ওই টাকা আনার নামে ট্যাক্স-ভ্যাট ও ডিএইচএল খরচের নামে সর্বমোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সিইআইডিতে অভিযোগ জানানোর পর আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করি। একপর্যায়ে আমরা দেখতে পাই এইভাবে বিজ্ঞাপন মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে ২৫-৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
পরবর্তীতে আবার অন্য ভিকটিমের কাছ থেকে টাকা নেয়ার জন্য দেখা করত আসার সময় বিশেষ পুলিশ সুপার, ঢাকা মেট্রোর পশ্চিম ইউনিট গতকাল বৃহস্পতিবার সাদিয়া জান্নাতুলকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তার কাছ থেকে ৩ ভিকটিমের ১০টি পাসপোর্ট, ৩টি মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড, ৭টি সীল, সংখ্যা ব্যবহৃত সীম ও হিসাবের খাতাসহ গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক এশিয়ায় ৪৮ লাখ টাকা জমা দেয়ার স্লীপ উদ্ধার করা হয়’।

জানা যায়, আসামী প্রায় ১০ বছর ধরে এইভাবে অসংখ্য ভিকটিমের সাথে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কুমিল্লার মেয়ে জান্নাত এসএসসি পাস হলেও আসলে পোশাক ও কথা বার্তায় স্মার্টনেসের কারণে কানাডা প্রবাসী বলে ভিকটিমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ২য় বিয়ে করেন তিনি, যে নিজেও এই প্রতারক চক্রের সদস্য। প্রতারক চক্রের সদস্যদের ঢাকাসহ আশেপাশে ২০ কোটি টাকার জমিসহ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ চক্রের আরও সদস্য গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত আছে।

এমআই



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে