রাজনীতির পালে হাওয়া

0
8


রাজনীতির পালে হাওয়া

  • উপনির্বাচনকে ঘিরে মাঠ দখলের লড়াই

  • চিরচেনা সেই ‘ব্লেইম গেম’

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাঙ্গা সারাদেশ

রাজনীতির পালে লাগতে শুরু করেছে নতুন হাওয়া। মহামারি কোভিড-১৯ এর ভয়ঙ্কর তাণ্ডবে ৫ মাসের প্রায় বেশি সময় স্থবির রাজনৈতিক দলগুলোতে ছিল রাজ্যের নীরবতা। করোনার কারণে থমকে ছিল মাঠের রাজনীতি। করোনার ছোবলে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর পালে হাওয়া দিয়েছে উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচনের ডামাঢোলে ঘরবন্দি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি আবার রাজনীতির মাঠে। নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনীতির নিত্যদিনের সংস্কৃতি ‘বাকযুদ্ধের জাল বোনা’।

মূলত. শূন্য হওয়া ৫টি আসনে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাইছে দলগুলো। এরপর পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সারাদেশে দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, করোনায় মাঠের রাজনীতি বন্ধ ছিল। তবে নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে ছিলেন। আর্থিক-মানবিক সহায়তা করছেন। স্লোগান তুলে মাঠ গরমের রাজনীতির চেয়ে এটি বেশি জরুরি ছিল। বর্তমানে উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে চিরচেনা সংস্কৃতিতে ফিরছে রাজনীতি। জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর রশিদ ভোরের কাগজকে বলেন, সময় ও পরিস্থিতির কারণে রাজনীতি পরিবর্তন হবে, এটি স্বাভাবিক। পরিস্থিতির কারণে রাজনীতিবিদরা জনসমাগম এড়িয়ে ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনগুলো ঘিরে ধীরে ধীরে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রাজনীতি আবার মাঠে ফিরছে।

উপনির্বাচনকে ঘিরে মাঠ দখলের লড়াই : উপনির্বাচনকে ঘিরে মাঠ দখলের লড়াইয়ে নেমেছে দলগুলো। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ৫ জন সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে ৫টি আসন শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে ঘিরে প্রেস রিলিজ সর্বস্ব স্থবির রাজনীতিকে চাঙ্গা করতে চায় বিএনপি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও উপনির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে। পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টিও। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠেছে রাজনীতির মাঠ। আগামীকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে নৌকার টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস। ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ এবং বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে নওগাঁ-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকার প্রার্থী রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, লাঙলের প্রার্থী রাণীনগর উপজেলার সভাপতি কাজী গোলাম কবির এবং ধানের শীষ প্রার্থী শেখ

মুহাম্মদ রেজাউল ইসলাম। এই দুই আসনে আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া হবে। অন্যদিকে নৌকার টিকেট পেতে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৩ জন ও ঢাকা-১৮ আসনে ৫৬ জন। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৫ জন এবং ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির ৩ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজ করছেন।

চিরচেনা সেই ‘ব্লেইম গেম’! : মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এসেছে চিরচেনা সেই ব্লেইম গেম। পাবনা-৪ (ঈশ^রদী-আটঘরিয়া) আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ২টি নির্বাচনী অফিসে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় নির্বাচন অফিসে কোনো নেতাকর্মী না থাকায় কেউ হতাহত হয়নি। অন্যদিকে প্রচারে বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, মাইক ভাঙচুর, নেতাকর্মীদের রাস্তায় আটকে রেখে লাঞ্ছিত করা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যেতে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ^াস সুষ্ঠু ও জনগণের রায়কে ভয় পাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে জনজোয়ার দেখে তিনি ভীত। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাঙ্গা সারাদেশ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও মৌলভীবাজার জেলা, ৯ উপজেলা ও ৬১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে গত বুধবার পর্যন্ত আসন্ন ৮টি উপজেলা ও ৩৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ৪৮ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। করোনার মধ্যেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে রাজনীতি আবার সরগরম হয়ে উঠবে- এমনটাই ধারণা করছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। সূত্রমতে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে দেশব্যাপী দলের অপূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় পার্টিও (জাপা) নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন গোছানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান ভোরের কাগজকে বলেন, রাজনীতির দুটি দিক। একটি হলো- জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনীতি। আরেকটা দিক হচ্ছে সাংগঠনিক রাজনীতি। কোভিড-১৯ এর সব সময় আমরা জনগণের পাশে ছিলাম। সর্বোচ্চ সহায়তা করেছি। মাঠে ধান কাটা থেকে শুরু করে ত্রাণ বিতরণ সব করেছে আওয়ামী লীগ। তখন প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষ বাঁচানো। সব মিলিয়ে সাংগঠনিক রাজনীতি কিছুটা বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন আমরা সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ৮টি কমিটি হয়েছে। আরো ৩২ কমিটি শেষ হওয়ার পথে। আমি মনে করি, আগামী ৭-৮ মাসের মধ্যে আমাদের সব কমিটি গঠন শেষ হবে এবং সাংগঠনিক রাজনীতি আরো শক্তিশালী হবে।

এমআই



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে