শেখ রাসেলের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত

0
13


শেখ রাসেলের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত


বর্তমান শিক্ষার্থীদের শেখ রাসেলের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ছোট্ট একটা শিশু হয়েও সে কীভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে ব্যবহার করতো, সবাইকে সম্মান দিতো। বঙ্গবন্ধু নিজেও শিক্ষকদের আলাদা মর্যাদা দিতেন। আজ কি সেই সময় আছে? আমাদের ভাবতে হবে, বঙ্গবন্ধু কোন আদর্শে চলতেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে হাসুমণির পাঠশালা আয়োজিত ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ অবলম্বনে গোলটেবিল আলোচনা, শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুতোষ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও ‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও ভার্চ্যুয়াল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এসব কথা বলেন।

হাসুমণির পাঠশালার সভাপতি মারুফা আক্তার পপির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম প্রমুখ। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। এরপর ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ছেলে হয়েও শেখ রাসেলের চলাফেরা ছিল খুব সহজ সরল এবং সাধারণ এমন মন্তব্য করে আরেফিন সিদ্দিক আরো বলেন, আমার ছোট বোন ও শেখ রাসেল একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তার কাছ থেকে একাধিকবার শেখ রাসেলের কথা শুনেছি। শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধুর ছেলে হয়েও চলাফেরা ছিল খুব সাধারণ। তার বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ ও আন্তরিকতা সবাইকে মুগ্ধ করতো। শেখ রাসেলের বিভিন্ন শিক্ষকও বলেছেন, তাদের শিক্ষক জীবনে শেখ রাসেলের মতো শিক্ষার্থী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

তিনি বলেন, আমাদের ভাবতে হবে, বঙ্গবন্ধু কোন আদর্শে চলতেন। আমাদের সেই আদর্শ মেনে চলা খুব প্রয়োজন।

একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির প্রতিটি মানুষ মানবিকবোধে গুণান্বিত। শেখ রাসেল মাত্র ১০ বছরের শিশু হয়েও সেই মূল্যবোধে তাদের একজন হয়ে উঠেছিল। তবে ঘাতকেরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্য করলেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না। সেই প্রত্যাশায় তারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকেও ছাড় দেয়নি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্ব বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

শরীফ আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা উভয়েই শেখ রাসেলকে খুব ভালোবাসতেন। সেই ভালোবাসা থেকেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা চাই আমাদের প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় বেড়ে উঠে।

জুনায়েদ হালিম বলেন, শেখ রাসেল সব থেকে সম্ভাবনাময় একটি শিশু। সে বেড়ে উঠতে পারতো বাংলাদেশের হয়ে। আমরা তাকে হারিয়েছি অঙ্কুরে। তবে আমরা চাই বাংলাদেশের সকল শিশু যেন সাংস্কৃতিক মনোভাবে বেড়ে ওঠে।

ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আজ একজন সু-নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নতি করতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ আমরা হারিয়েছি। তবে সেই ছোট্ট শিশুর আদর্শে আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠবে এবং দেশের উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী তরুণ ঘোষ, শিল্পী সঞ্জীব দাস অপু, শিল্পী কিরিটি রঞ্জণ বিশ্বাস, শিল্পী জাকির হোসেন পুলক এবং সূচি শিল্পী ইলোরা পারভীন। অনুষ্ঠানে ‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এসময় বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে বই, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে শিশু শিল্পী সৃজনী সাহা, তুনানজিনা তাসনিম শিকদার, জাকারি হোসাইন, রওজা তাসনিম, জুবাইদা হক অবনী, মাদিবা মায়াণী, মেহজাবিন রহমান, দেবপ্রিয় মজুমদরসহ বিভিন্ন জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রদর্শনীতে প্রায় দুই শতাধিক শিশুর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। ভার্চুয়াল এই প্রদর্শনীটি দেখা যাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে