টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একের পর এক সড়ক ভেঙে কয়েক লক্ষ মানুষ পানিবন্দী

0
50

রবিউল ইসলাম: রাক্ষুসে যমুনার তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়কের পর এবার ভেঙে গেছে টেপিবাড়ি-ফলদা-গোপালপুর সড়ক।

এছাড়া পানির তোড়ে পলিশা, কুতুবপুর আঞ্চলিক সড়কসহ একাধিক ছোট ছোট সড়কও ভেঙে গেছে। ফলে এসব সড়কের সব প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব রুটে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে যমুনা পূর্ববর্তী বাঁধ হিসেবে পরিচিত ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়‌কটি ভেঙে কমপক্ষে ৫০টি গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ঘরের আসবাব ও মালপত্র নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যার্তরা।

এদিকে এসব গ্রামের ছোট-বড় মিলে মাছ এবং পোনা উত্পাদনকারী কয়েক শতাধিক পুকুর ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেপিবাড়ি, পলিশা, মাইজবাড়ি গ্রামের মৎস্য চাষিরা।

সরজমিনে শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, টেপিবাড়ি, পলিশা, কুতুবপুর, বাশালিয়া, বলরামপুর, মাদারিয়া, তাড়াই, মাইজবাড়ি, ঝনঝনিয়াসহ উপজেলার ৫০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ বাড়িতে কোমর পানি থাকায় বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন সড়কসহ উঁচু স্থানে গবাদি পশুসহ ঘরের মালামাল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে একের পর সড়ক।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ভূঞাপুর উপজেলার তারাই এলাকার বাঁধ ভেঙে যায়। পরদিন সকালে তীব্র স্রোতে প্রবাহিত হতে থাকে টেপিবাড়ি হাইস্কুল মাঠ দিয়ে। দুপুরের দিকে স্কুলের মাঠ ভেঙে স্কুলের দুইটি টিনের ঘর ভেসে যায়। পরে তীব্র স্রোতে গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের টেপিবাড়ি এলাকায় ৫০ মিটার ভেঙে যায়। ফলে ভূঞাপুরের সাথে উত্তরের সব এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের আরও কমপক্ষে ১০ টি স্থানে লিকেজ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে সকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, ভূঞাপুর পৌর মেয়র মাছুদুল হক মাছুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সড়কটি পরিদর্শন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে