টাঙ্গাইলে অবৈধ এক তারে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ৮ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

0
33

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ লাইন টানিয়ে অর্ধশতাধিক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভূঞাপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কর্তাদের বিরুদ্ধে। খুঁটি বিহীন একতারে সংযোগ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও উপজেলার রায়ের বাসালিয়া গ্রামে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস। এভাবে বিদ্যৎ পেতে ওই বিদ্যুৎ অফিসের দালাল কাবিল ও হায়দার গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে কর্তাদের দিয়েছেন বলে তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার রায়ের বাসালিয়া এলাকায় ওই চক্রটি বিদ্যুৎ অফিসের কর্তাদের যোগসাজশে খুটি বিহীন এক তারের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্ধশত মিটার স্থাপন করে বিদ্যুত সংযোগ দেয়। এতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি হাতিয়ে নেয়া হয় গড়ে ১৫ হাজার টাকা। এদিকে দুই দালাল চক্র ও অফিসের মধ্যে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ঝটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় একপক্ষ অন্য পক্ষের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। এনিয়ে একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া রায়ের বাসালিয়া গ্রামের অনেকেই বলেন, দালাল ও ঘুষ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ নিয়েছি। দুদক এতোকিছু করে কিন্তু এই বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে কেন অভিযান করেনা? অভিযান করলেই কোটিকোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়বে। সরেজমিনে উপজেলার রায়ের বাসালিয়া গ্রামের গেলেও এর সত্যতা পাওয়া যায়।

হায়দার আলী সরকারের গ্রুপ ও ময়মনসিংহ পৌরসভায় কর্মরত কাবিল হোসেন ওরফে ছোট বাবু গ্রুপ বিদ্যুৎ অফিসের কর্তাদের ম্যানেজ করে রায়ের বাসালিয়া বাজার মোড় হতে ঝুঁকিপূর্ন এক তারের মাধ্যমে অর্ধকিলোমিটার এলাকায় অর্ধশত মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। সহকারি প্রকৌশলী পূর্নচন্দ্র পাল ও অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পিডিবির পুল থেকে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্নভাবে এক তারের মাধ্যমে মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের । পরে ওই দুই গ্রুপ ও বিদ্যুৎ অফিসের সাথে আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে হায়দার আলী সরকারের গ্রুপের লোকজন কাবিল হোসেনসহ কয়েকজনের মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে কাবিল হোসেনের মা বাদী হয়ে গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বলে জানান তারা।

এবিষয়ে হায়দার আলী সরকার বলেন, ভূঞাপুর পিডিবির বিদ্যুৎ অফিসের সহকারি প্রকৌশলী পূর্ন পালসহ অফিসের কয়েকজনের মাধ্যমে বিদ্যুতের পিলার স্থাপন ও তারের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানানো হয়। এরপর কাবিল হোসেন এক তারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫/২০ হাজার টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কর্তাদের ম্যানেজ করে ঝুঁকিপূর্নভাবে মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। অবৈধভাবে এই মিটার সংযোগ ও টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। পরে বিদ্যুৎ অফিসের সহকারি প্রকৌশলী পূর্ন চন্দ্র পাল লাইনগুলো কেটে দিতে বলে।

এবিষয়ে ছোট বাবু বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। নিজের টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানানো হয়েছে। গ্রামের হায়দার, মিন্টুসহ অনেকেই মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তারে মিটার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছেন। তারা আমাদের বাড়ির লাইনসহ কয়েকজনের মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। পরে পুলিশ এসে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।

ভূঞাপুরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (পিডিবির) সহকারি প্রকৌশলী পূর্ন চন্দ্র পাল একতারে বিদ্যৎ সংযোগ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। যারা অভিযোগ করেছে তারা মিথ্যা বলেছে।

ভূঞাপুরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (পিডিবির) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক একতারে সংযোগ দেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি একবার বলেন আছে অরেকবার বলেন নাই। পরে সঠিক আইনটি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেই বলে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। পরে ঘুষ গ্রহণ করে একতারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন স্থানীয়দের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইল মিথ্যা, বানোয়াট বলে ব্যস্ততার অজুহাতে আর বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে