টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার পরবর্তী সাক্ষী ২৯ আগস্ট

0
4

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার বাদিপক্ষের আরো একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির আগামী (২৯ আগস্ট) মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত আদালতে মোট ১৮ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) আদালত কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। সেই অনুয়ায়ী সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে আসেন।

পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির এ চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর চিকিৎক ডা. মোজাম্মেল হোসেন সাক্ষ্য দেন এবং পরে তালে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী। পরে বিকেলে আদালতের বিচারক রাশেদ কবির আগামী (২৯ আগস্ট) মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন।

এদিকে আমানুর রহমান খান রানা আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে কোর্ট চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়। হাইকোর্টের জামিননামা পাওয়ার পর সমস্ত পক্রিয়া শেষ করে গত (৯ জুলাই) সকালে আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। দু’টি হত্যা মামলায় দুই বছর ৯ মাস ২১ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা বিগত ২০১৬ সালের (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তিনি বেশকয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিন্ম-আদালতে আবেদন করেও সেসময় জামিন পাননি।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) আমানুর রহমান খান রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে