ঢাকা অঞ্চলে সেরা দশের দ্বিতীয় সরকারি সা’দত কলেজ

0
55

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: পারফরম্যান্স র‌্যাংকিংয়ে অ্যাওয়ার্ড পেল দেশের ৭৬ কলেজ। মানসম্মত পাঠদান ও শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রমে অবদান রাখায় এই পুরস্কার দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আগে বলা হতো এটা মাল টানা রেলগাড়ির মতো। কিন্তু এখন এটি সম্পর্কে বলা হয়, দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই যে অগ্রযাত্রা সেটি অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।

সকালে আয়োজিত ‘কলেজ পারফরম্যান্স র‌্যাংকিং ২০১৬ ও ২০১৭’ অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী অনুষ্ঠানে আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যেসব কলেজ আছে সেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় মানে শিক্ষা লাভ করতে পারে সে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেকটি বিভাগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস করা যায় কিনা সেটি নিয়েও পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা লাভ করতে পারবে। তিনি শিক্ষকদের শুধু চাকরির মানসিকতা নিয়ে পাঠদান না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে পাঠদান করতে হবে। শুধু চাকরি হিসেবে কাজ করলে হবে না। বর্তমান সময় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায়ও শিক্ষা দান করা যায়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ লাখ শিক্ষার্থী। এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আগে অনেক নেতিবাচক তথ্য আমরা জানতাম। কিন্তু বর্তমান ভিসির নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বিষয়ে মৌলিক বই রচনা করতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে নোট-গাইডের বেশ প্রাধান্য। সেটি রোধ করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরব্যাপী কোনো না কোনো পরীক্ষা হয়। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। তাই শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে। যেখানে শুধু পরীক্ষাই হবে। অন্য কিছু নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল সেশনজট নির্মূল করা। দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেই সেশনজট দূর করা হয়েছে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাতে সারা বছরের ভর্তি, পরীক্ষা, ফল প্রকাশসহ একাডেমিক সব কার্যক্রমের অগ্রিম দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সেটি অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরোপুরি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সেরার পুরস্কার পেল যেসব প্রতিষ্ঠান – জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭১৮টি স্নাতক (সম্মান) পাঠদানকারী কলেজের মধ্যে জাতীয় ভিত্তিক ৩১টি মানদ-ের ভিত্তিতে নম্বর দিয়ে সেরা কলেজ নির্বাচিত করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৭ সালের সেরা পাঁচ কলেজ, একটি সেরা মহিলা কলেজ, একটি সেরা সরকারি কলেজ ও একটি সেরা বেসরকারি কলেজের নাম ঘোষণা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। এ ছাড়া বিভাগভিত্তিক ১০টি করে সেরা কলেজের নামও ঘোষণা করা হয়। তবে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে অংশগ্রহণকারী কম থাকায় ১০টি প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি।

শনিবার বিজয়ী কলেজগুলোকে অ্যাওয়ার্ড, সনদ ও চেক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

দেশের সেরা পাঁচটি কলেজ হচ্ছে – রাজশাহী কলেজ, বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বগুড়ার সরকারি আযীযুল হক কলেজ, পাবনার সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজ ও রংপুরের কারমাইকেল কলেজ।

জাতীয় পর্যায়ে সেরা মহিলা কলেজ হচ্ছে- লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, সেরা সরকারি কলেজ রাজশাহী কলেজ, সেরা বেসরকারি কলেজ ঢাকা কমার্স কলেজ।

ঢাকা অঞ্চলের সেরা দশ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- ঢাকা কমার্স কলেজ, টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজ, ঢাকার তেজগাঁও কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, কিশোরগঞ্জের সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে