মধুপুর বনের জায়গা দখলের চেষ্টায় প্রভাবশালীরা

0
21

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: পত্রঝরা বৃক্ষে বৃহৎ ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঐতিহাসিক টাঙ্গাইলের মধুপুর শাল গজারির বনাঞ্চল স্থানীয় প্রভাবশালী বনদস্যুরা জবর দখল করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বনের কিছু সংখ্যক জায়গা বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের লোকজন জবর দখল করার চেষ্টা করছে।

এ নিয়ে আতংষ্কে দিন কাটাচ্ছে উপকার ভোগীরা। মধুপুর বনের জাতীয় উদ্যানের রাজাবাড়ী বিটের আওতাধীন কিছু বনের জায়গা জবর দখল করার অভিযোগ করেন প্লট উপকার ভোগীরা ।

উপকার ভোগীরা বনদস্যুদের অত্যাচার ও হুমকির কারনে উচ্ছেদ আতংষ্কে দিন কাটাচ্ছে। বনের জায়গা প্লট উপকার ভোগী মধুপুর উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের উপজাতি বীনেশ হাগিদগ, বিনীতা, সুরেলা রেমা, মোসলেম, শাজাহানসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান খন্দকারের ছেলে বাদশা খন্দকার, বছিরের ছেলে খোরশেদসহ একই উপজেলার পাহাড় পাবইজান গ্রামের হেকিম ম্যানেজারের ছেলে রমজান আলী আকন্দ, কালামের ছেলে সোলাইমান মৃত নবাব আলীর ছেলে নওশের আলী, এরা সকলেই স্থানীয় প্রভাবের কারণে বনের জায়গা জবর দখলের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। মধুপুর বনের জায়গায় রয়েছে জাতীয় উদ্যান,শিশু পার্ক ও সরকারি সামরিক বাহিনী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জ রসুলপুর।

এখানকার বিমান বাহিনীর লোকজনদের নাম ভাঙ্গিয়ে বনদস্যুরা বলেন- বন বিভাগ তোদের যে প্লট দিয়েছে সেই প্লট বিমান বাহিনীর লোকজন আমাদের কে লিজ দিছে । তোরা বনের জায়গা ছেড়ে দে আমরা ফলের বাগান করব। আর যদি জায়গা আমাদের কে না দেস তাহলে বিঘা প্রতি সাড়ে ৪ হাজার করে টাকা দিতে হবে বলে দাবী করে। আর যদি টাকা না দেস তাহলে তোদের কে ঐ জায়গা থেকে জোরপূর্বক তোদের কে উঠিয়ে দিব। তোদের বনের অফিসারগনও আমাদের কে ফিরাতে পারবে না।

বনের প্লটের উপকার ভোগী মধুপুর উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের উপজাতি বীনেশ হাগিদগ, বিনীতা, সুরেলা রেমা, মোসলেম, শাজাহানসহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই যে আমাদের এই মধুপুর বনের জায়গা যাতে বনদস্যুরা জবর দখল না করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ ব্যাপারে মধুপুর বনের জাতীয় উদ্যানের রাজাবাড়ী বিট কর্মকর্তা মো. জহিরুর ইসলাম জানান, মধুপুর গড়াঞ্চল একটি ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। মধুপুর বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ হারাতে বসেছে এই বনদস্যুদের কারনে । তাদের বিরুদ্ধে আইনঅনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্যা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে। এই বন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসন, ধনবাড়ী-মধুপুরের এমপি বর্তমান কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ বন মন্ত্রী এবং প্রধান মন্ত্রীর হস্থক্ষেপ কামনা করছি।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে