সখীপুর কৃষিবিভাগের ৬টি বীজাগারের ভবনই পরিত্যক্ত! জমি স্থানীয়দের দখলে

0
48

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছয়টি ইউনিয়নের কৃষিবিভাগের ছয়টি বীজাগার ভবন পরিত্যাক্ত। জমিগুলোও চলে গেছে স্থানীয়দের দখলে। গত ৪২ বছর ধরে ওইসব বীজাগারে কোনো কার্যক্রম না থাকায় ভবনগুলো অযতেœ অবহেলা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এদের মধ্যে তিনটি ভবন ও জমি স্থানীয়দের দখলে আর বাকী তিনটির কোন অস্তিত্বই নেই। সম্প্রতি প্রতিটি কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার্থে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসিক সুবিধা দেওয়ার জন্য ওইসব জমিতে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকারের কৃষি অধিদপ্তর। কিন্তু সখীপুরের ওইসব ভবন ও জমি স্থানীয়দের দখলে থাকায় সরকারের এ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষিবিভাগ।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ১৯৬২ সালে প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ভিত্তিক বীজাগার হিসেবে ২০ শতাংশ জমির ওপর টিনসেড পাকা ভবন নির্মাণ করে সরকার। ১৯৭৬ সালে সখীপুর থানা ঘোষণা হলে সখীপুর বাজারে কোনো পাকা ভবন না থাকায় গজারিয়া ইউনিয়নের বীজাগারের ভবনটি সখীপুর থানার অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এর ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে সখীপুর থানা ওই ভবনটি ছেড়ে দিলে স্থানীয়রা ওই ভবন এবং জায়গা দখল করে নিজেদের মতো ব্যবহার করেন। ১৯৮৯ সালে ডিগ্রি অনার্স মাস্টারস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ডিঅমস) নামের স্থানীয় একটি সংগঠন বীজাগারের ভবনটি তাদের অফিস হিসেবে দখলে নেয়। ২০০০ সালে সখীপুর পৌরসভা স্থাপিত হলে ওই ভবনটি পূণরায় পৌরসভার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন। তিন বছর পর ২০০৩ সালে পৌরসভার কার্যক্রম অন্যত্র চলে গেলে আবারও ডিগ্রি অনার্স মাস্টাস এসোসিয়েশন (ডিঅমস) অফিস হিসেবে দখলে নেয়। সেই থেকে ডিঅমস এবং পরবর্তীতে আরও কয়েকটি সংগঠন ওই ভবনের কক্ষগুলো দখল করে আছে। জমির এক অংশে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সখীপুর বাজারের দোতলা গণশৌচার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বীজাগারের বাকি জমিতে স্থানীয়রা চা স্টল, হোটেল ও দোকানপাট স্থাপন করে ব্যবহার করছেন।

এ ব্যাপারে সখীপুর বাজার বণিক বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি তাহেরুল ইসলাম ইয়ারুম তালুকদার বলেন, বাজারের লোকজনের সুবিধার্থে সরকার ওই জমির ওপর একটি দ্বিতলা শৌচাগার করেছেন। অন্য জমিগুলো দখল করে স্থানীয়রা হোটেল, চা স্টল ও ছোট ছোট দোকান গড়ে তুলেছেন।

এদিকে যাদবপুর ইউনিয়নের বীজাগারটি ওই ইউনিয়নের কালিদাস বাজারে স্থাপিত হয়। কালিদাস কলিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ওই ভবনটি দখলে নিয়ে ব্যবহার শুরু করেন। দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় ওই ভবটি ব্যবহারের পর ভবনটি পরিত্যক্ত হয় এক পর্যায়ে ভবনটিও ধীরে ধীরে ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই ভবনের জমি দখল নিয়ে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক একেএম সাইফুল্লাহ বীজাগারের জমি দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার যেকোনো সময় ওই জমি ফেরৎ চাইলে আমরা ছেড়ে দেব।

এদিকে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন বীজাগারের ভবনটি বহেড়াতৈল বাজারে নির্মিত হয়। কৃষিবিভাগ ১৯৭৬ সালের পর ওই ভবনটি আর ব্যবহার না করায় বহেড়াতৈল বাজারের ব্যবসায়ীরা ওই ভবনটিও দখলে নেন। প্রায় ১০ বছর আগে ওই ভবটিও পরিত্যক্ত এবং এক পর্যায়ে ভেঙে পড়ে অস্তীত্বহীন।

এ ব্যাপারে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবি ভূইয়া জানান, বর্তমানে কৃষিবিভাগের ওই পরিত্যক্ত বীজাগারটি বাজারের লোকজনের গণশৌচারগার হিসেব ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়াও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা বাজারে স্থাপিত বীজাগারটি ব্যবহার না হওয়ায় সেটিও আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে।

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাঁর পরিষদের পাশেই ওই জমির অবস্থান। তবে ওই জমিতে ভবনের কোনো লেশ মাত্র নেই।

কাকড়াজান ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পারভীন আক্তার বলেন, বৈলারপুর গ্রামে বীজাগারের ভবন থাকলেও সেটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

কালিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার ও হাবিবুর রহমান বলেন, বড়চওনা বাজারে বীজাগারের ভনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কাগজে কলমে ওই দুই কর্মকর্তার নামে আবাসিক ভবন হিসেবে ভবনটি বরাদ্দ থাকলেও এটি বাজারের লোকজনের গণশৌচাগার ও মাদক সেবীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এরও অনেক মূল্যবান জমিও এখন বেদখলে।

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্বের বীজাগারগুলো ভেঙে ও দখলমুক্ত করে কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসিক সুবিধা দিতে সরকার নতুন ভবন করার পরিকল্পনা করছেন। শিগগিরই বেদখলে যাওয়া ওইসব জমি ও ভবন কৃষিবিভাগের দখলে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে