ক্রেতাশূন্য ঘাটাইলের চামড়ার বাজার

0
18

ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়াতে গড়ে উঠা দেশের বৃহত্তম চামড়ার বাজার। ১৯৮১ খ্রিঃ গড়ে উঠা এই হাটটি এখনো অত্র অঞ্চলের সর্ববৃহৎ হাট হিসাবে পরিচিত। প্রতি সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার চামড়ার হাট বসে এখানে। বগুড়া, সিরাজগঞ্জ কেরানীগঞ্জ,বৃহত্তম ঢাকা বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকেই ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচা কেনা করতে আসেন এই হাটে।
সারা দেশের ন্যায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে টাংগাইলেও এর প্রভাব পড়েছে।

ঈদুল আযহার একদিন চলে গেলেও দু’একজন ট্যানারি মালিক ও সাধারণ ব্যবসায়ী বাজারে আসলেও দাম বলছে প্রতি পিসে ক্রয় দামের চেয়ে ২ থেকে ৩শ টাকা কমে। ফলে বড় অংকের লোকসানে পড়বার আতঙ্কে আছেন সুদে টাকা ধার নিয়ে চামড়া কেনা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। পাকুটিয়া চামড়ার বাজার ঘুরে এমন তথ্য মিলেছে। এতে অনেকেই রাগে ও দুঃখে চামড়া বিক্রি না করে মাটির নিচে পুতে ফেলেছেন।

পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি সুদে ধার নিয়ে ২ লাখ টাকার চামড়া কিনেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এভাবে ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু বাজারে এসে বসে থেকেও চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মনে হয় টাকা খাটিয়ে কোন নিষিদ্ধ পন্যের ব্যবসা করছি। চামড়ার যেন কোন দামই নেই। এই চামড়া বিক্রি করতে না পারলে তার বাঁচার কোন পথ থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

হামিদপুরের হোসেন আলী নামের একজন জানান, তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি ষাঁড় গরুর চামড়া মাত্র ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ছালাম নামের একজন বলেন, তিনি ১৫ হাজার টাকা দামের একটি খাসির চামড়া মাত্র ২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, চামড়ার দাম না থাকায় গরীব লোকজন যারা চামড়া বিক্রির পয়সা পেয়ে থাকে তারা এবার বঞ্চিত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন স্থায়ী সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা জানান,কমদামে কেনা এই চামড়া গুলো স্থানীয় কিছু শ্রমিক লবণ দিয়ে গুদামজাত করেছেন। আগামী হাটে বড় বড় কোম্পানির টেনারি মালিকরা আসবেন তাদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি হবে।

পাকুটিয়া চামড়ার বাজার ইজারাদার আব্দুল কাদের খান জানান, অধিক মূল্য দিয়ে এবারের হাট ডেকে এনেছি। প্রতিটি চামড়া থেকে আমাদের ১০ টাকা কমিশন দিতে হয়। দেখেন সারা বাজারে কোন ক্রেতা নেই। ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনছেন না। তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকদের কেউ কেউ সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত লোকজন দিয়ে কিছু কিছু চামড়া সংগ্রহ করছেন। এতে আমাদের মত ব্যবসায়ীরা যারা বছরের এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকি তাদের মহাবিপদ হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে