টাঙ্গাইলে চলছে তামাক জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন; ফলে শিক্ষার্থীরা ধূমপানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে

0
59

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে তামাক জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীরা ধূমপানসহ মাদকাসক্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রকাশ্যে তামাক জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিগারেট কোম্পানীগুলো তা মানছে না।

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ-পাশের দোকানগুলোতে তামাক জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনের প্রদর্শন লক্ষ করা গেছে। এতে অতি সহজেই শিক্ষার্থীরা হাতের কাছে সিগারেটসহ ধূমপায়ী পণ্য পাচ্ছে। এছাড়া, টাঙ্গাইলে এক রঙা টি-শার্ট, ভ্যান গাড়িসহ নানা বিজ্ঞাপন সামগ্রী নিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল(জেটিআই) ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীসহ বিভিন্ন কোম্পানীকে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের সিগারেট বাজারে প্রবেশের পর থেকে প্রচারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজার দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে দূরপ্রাচ্যের এ কোম্পানীগুলো।

ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে যেকোন ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান আইনের এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনি বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছে জেটিআইসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানী।

এদিকে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে টোব্যাকো কোম্পানীগুলোর আগ্রাসী প্রচারণা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকার যেখানে দেশের তরুণ সমাজকে মাদক ও তামাক থেকে দূরে রাখতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে প্রকাশ্যে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে কোম্পানীগুলো কিশোর-তরুণসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে তামাকের প্রতি আকৃষ্ট করছে।

এ বিষয়ে তামাক বিরোধী টাঙ্গাইলের প্রবীণ দৌঁড়বিদ মির্জা শাহজাহান বলেন, আমি একটানা প্রায় ২০ বছর ধূমপান করেছি। ধূমপানে কোন প্রকার লাভ হয়নি। তাই আমি ধূমপান ছেড়ে কয়েক বছর যাবত দৌঁড় শুরু করেছি। এখন আমাকে নিজের কাছে প্রবীণ নয় নবীন মনে হয়। আমার ৬৬ বছর বয়স হলেও নিজেকে ১৮ বছরের যুবক মনে হয়। আমি এখন ধূমপায়ীদের ধূমপান করতে নিরুৎসাহিত ও ধূমপান থেকে দূরে সরে আসার আহ্বান জানাই। রাস্তা-ঘাটে সিগারেটের পট্টি দেখলে আমি তা কুড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেই।

তিনি আরও বলেন, জেটিআই বা অন্য টোব্যাকো কোম্পানীর মত যারা শহরে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে তরুণদের আকৃষ্ট করছে সেইসব কোম্পানীর বিজ্ঞাপন প্রদর্শণ বন্ধের পাশাপাশি আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে তামাক জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে