টাঙ্গাইলের যমুনায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় লাখো মানুষের ঢল

0
15

নিজস্ব প্রতিনিধি: আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন লোক-ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ পরিচিত নাম নৌকা বাইচ। হাজার বছর থেকে গ্রামা লের জনপদের জীবনপ্রবাহ ও বিরামহীন এই জীবনযাত্রায় এসেছে অনেক পরিবর্তন বিবর্তন। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম্য অ লের বিভিন্ন ধরণের উৎসব মুখোর খেলাধুলা। এ দেশের লোককৃষ্টির একটি অঙ্গ নৌকা বাইচ যা এমনই হারিয়ে হচ্ছে। জমে না অতীতের মতো আজকাল আর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

গ্রাম বাংলার প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে বিগত কয়েক বছর ধরে যমুনা নদীর অংশে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দাসী পুরাতন ফেরী ঘাট ও বৃহত্তর গরুর হাটের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে দুই দিন ব্যাপি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনির।

তারইধারাহিকতায় এমপি ছোট মনিরের নিজ উদ্যোগে শুক্র ও শনিবার (৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর) দুইদিন ব্যাপি নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে দুপুরে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ।

এ সময় যমুনা নদীর তীরে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনির, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামাখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ডা.হাবিবে মিল্লাত (মুন্না), মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল হালিম (এ্যাডভোকেট), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ ভোলা, ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলিফ নূর মিনিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ।

যমুনা নদীতে দুই দিন ব্যাপি এ নৌকা বাইচে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ও পার্শ্ববতী গোপালপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল উপজেলা এবং সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর থেকে আসা প্রায় শতাধিক নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এতে প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার মোটর সাইকেল, দ্বিতীয় পুরস্কার ফ্রিজ ও তৃতীয় পুরস্কার রঙিন এলইডি টেলিভিশন চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে প্রদান করা হয়। নৌকা বাইচটি গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান গাজী ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে দেখা যায়, নৌকা বাইচের একদিন আগে সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাইচের নৌকা অনুষ্ঠান স্থানে এসে উপস্থিত হয়। নৌকা বাইচের উদ্বোধনের দিন শনিবার ও পরের দিন রবিবার সকাল থেকে আসতে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দুপুর থেকে গোবিন্দাসী ঘাটের আশে পাশে লাখো মানুষের সমাবেত হয়। দর্শনার্থীরা উচ্ছাস ও আনন্দে মেতে উঠেন নৌকা বাইচ দেখতে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় নদীর তীরবর্তী এলাকায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে