দেশের সাথে আমার গ্রামও হয়েছে উন্নত

0
85

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমার গ্রাম যাদবপুর । এ গ্রামে  আমার জন্ম। আমার বসবাস । আগের মত আর নেই এ গ্রাম। এ গ্রাম জুড়ে অনেক আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে।

ছোট বেলা দেখেছি, এ এলাকা ছিল একেবারেই অজপাড়াগাঁ। কিন্ত এখন বুঝতে পারি। দেশের উন্নয়নযাত্রায় আমার সেই  অজপাড়াগাঁ , পা ডোবানো কর্দমাক্ত রাস্তাঘাট এখন ঝকঝকে বিটুমিনাইজড রাস্তাঘাট হয়েছে।  এসেছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতে গ্রামের প্রতিটি বাড়িঘর এখন আলোকিত। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই এসে গেছে এলইডি লাইট, রঙিন ও আধুনিক টিভি। বৈদ্যুতিক পাখা, ইয়ারকুলারসহ ফ্রিজ ও অন্যান্য নানা ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

আর্থিক সঙ্গতি যে বাড়ির ভালো, সে বাড়িতে কোনোকিছুরই আর অভাব নেই, শহরের সব সুবিধা এখন গ্রামেই পাওয়া যায়। আর সবকিছুই হচ্ছে এত দ্রুত যা দেখে রীতিমতো অবাক হতে হয়। আগে জেলা শহর আর বড় বন্দর এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল, তখন গ্রামাঞ্চলে ছিল ডিজেল চালিত দোয়াত, হারিকেন। এক সময় গ্রামে যানবাহন হিসেবে গরুর গাড়ি, সাইকেল, ভ্যান ছিল আর এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে মোটরসাইকেল,  আবার অনেকের প্রাইভেটকার।  মাঝবয়সি, তরুণ-তরুণী, ছাত্রছাত্রী সবার হাতেই রয়েছে দামী মোবাইল ফোন।

সংযোগ আছে ইন্টারনেটের। ফলে তাদের কাছে সবকিছুই সহজতর হয়ে উঠেছে। টাকা-পয়সা লেনদেন, যোগাযোগসহ বিনোদনের সব কলাকৌশলই এখন তাদের হাতের মুঠোয় এসে গেছে।  অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন গ্রামের মানুষেরা। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য হাইস্কুল, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, রয়েছে নবসৃষ্টি শিক্ষা একাডেমিক স্কুলের মত মান সম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গ্রামাঞ্চলের প্রায় সব বয়সি মানুষ এখন মোবাইল আর টিভি নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান ।

আগে রাতে ঘুমাত সন্ধ্যার পরে, এখন ঘুমাতে যায় ১১-১২টার পরে। ডিশ লাইনও চালু হয়ে গেছে সমগ্র গ্রামে। আগে ব্যাটারি দিয়ে  সাদাকালো টেলিভিশনে শুধু বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতাম। এখন দেখছি প্রায় ঘরেই চলছে বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠান।
আমাদের দেশেীয় এখন সাতাশটারও বেশি টিভি চ্যানেল চালু আছে, আরও আসছে। বিশেষ করে, দুই ঈদে প্রচুর নাটক আর সিনেমা দেখানো হয় এসব চ্যানেলে। দেখানো হয় নানারকম অনুষ্ঠান। তবে কি ধরে নিতে হবে যত দিন যাচ্ছে, যত আমরা আধুনিক হচ্ছি, ডিজিটালাইজড হচ্ছি।

গ্রামের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা তথ্য সংগ্রহে  ফেসবুক আর ইউটিউব চালানো শিখে নিয়েছে ।  আমার গ্রাম পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান গ্রাম। এ গ্রামেই জন্মেছে হযরত আলী মেম্বার, রঙ্গু মেম্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী আবদুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী আবদুল রহিম, প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, আবুল মাস্টার, ডাক্তার সেলিম, সহিদুল ইসলাম মাস্টার, নবাব আলী মাস্টার, সাংবাদিক এম সাইফুল ইসলাম শাফলু, পুলিশ কর্মকর্তা শামীম, প্রকৌশলী সাজ্জাত হায়দার শিমুলসহ বহু ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, আর্মি, বিডিয়ার নানা গুণিজনের জন্ম হয়েছে, তারা গ্রামের পাশাপাশি এ দেশকেও করছে গৌরবান্বিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে