মধুপুরে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার পরামর্শ ফি ‘‘দুপুরের খাবার আর সিগারেট’’

0
143

ধনবাড়ী প্রতিনিধি : জমির খাজনা অথবা নামজারি করতে গিয়ে পরামর্শ চেয়ে তা পাওয়ার আগেই অফিসের তিনজনের জন্য ‘‘দুপুরের খাবার আর ৫কাঠি বেনসন সিগারেটের’’ ব্যবস্থা করতে হয়। পরামর্শ অনুযায়ী আবেদনে ফি গুণতে হয় ৬‘শ টাকা। পরে অ ল বিবেচনায় জমির মূল্য অনুযায়ী কাজের শ্রেণিভেদে কন্ট্রাক্ট এ আসতে হয় বড় অংকের টাকায়।

এ নিয়ে কথার নড়চড় হলেই হেনেস্তা হতে হয় সেবা গ্রহণকারী জমির মালিকদের। এমন চিত্র টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভূমি অফিস থেকে পায়ে হাটা ২ মিনিট দূরের আলোকদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।

এমন ভয়াবহ চিত্রের বর্ণনা দিয়ে মধুপুর উপজেলার গোপদ গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে আক্তার হোসেন লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন- তার মৌজার ২৪৪ খতিয়ানের ৩১০ ও ৩১১ নং দাগের ১৭ শতাংশ জমির মালিক কাশেম আলীর পক্ষে নামজারি করার প্রস্তাব নিয়ে ওই ভূমি অফিসে যান। তিনি ওই ভূমি কর্মকর্তার প্রাথমিক চাহিদা ১২ হাজার ও কাজ শেষে আরও ৮ হাজার টাকার বিপরীতে মোট ৮ হাজার টাকা দিতে সম্মত হলে তাকে নাজেহাল করে ফেরত পাঠিয়ে দেন। পাঠানের সময় জানানো হয় খতিয়ানে সমস্যা আছে, খাজনার জন্য অতিরিক্ত বিশ হাজার টাকা লাগবে।

আবেদনকারি আক্তার হোসেন জানান, একটি ব্যাংক লোনে মর্গেজ দিতে সঠিক জমির কাগজপত্র দিয়ে নামজারি করা জরুরী। সেই উদ্যোগ নিতে গিয়ে এমন অবস্থায় পড়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। তিনি জানান, এমন ঘোষখোর কর্মকর্তার কবলে পড়ে স্থানীয় জমির মালিকগণ প্রায়ই অসহায় হয়ে পড়েন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওই ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার (তহশিলদার) বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জয়নাল আবেদীন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ও সঠিক কাগজপত্র না থাকায় হয়ত কাজ করে দিতে পারিনি। তাই প্রতিহিংসাবশত কেউ এমন কাজ করতে পারে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোস্তারী কাদেরী আবেদন বিষয়ে জানান, অভিযোগ থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে