টাঙ্গাইলে বাপের বাড়ি হতে ওয়ারিশের টাকা না এনে দেওয়ায় বর্শা দিয়ে আঘাত; অতঃপর মৃত্যু

0
109

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাবার বাড়ির ওয়ারিশ বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় এক পাষাণ্ড স্বামী তার স্ত্রীকে বর্শার আঘাতে হ’ত্যা করেছে। শনিবার (৫ অক্টোবর ) ভোরে উপজেলার স্থলবল্লা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হ’ত্যার পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মরদেহ রেখে নিহতের স্বামী শাহীনুর রহমান (৩৫), তার বাবা আব্দুস সামাদ ও মা তারা বানু পালিয়ে যায়।

নিহতের নাম স্বপ্না আক্তার (২৭)। তিনি উপজেলার ভ্রাহ্মণপাড়িল এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মুন্নান মিয়ার মেয়ে। স্বপ্না দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে একই উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের আব্দুস সামাদের প্রবাসী ছেলে শাহীনুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ভালই চলছিল দাম্পত্যজীবন। এরমধ্যে তাদের ঘরে দুই পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এমতাবস্থায় শাহীনুর বিদেশ থেকে দেশে চলে আসে। তারপর শাহীনুর রোজি-রোজগার বন্ধ করে দিয়ে মাদকসেবনে জড়িয়ে পড়ে। হতাশাগ্রস্থ শাহীনুর এক পর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকসেবী শাহীনুর বিভিন্ন সময় স্বপ্নাকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার চাপ দিলে কয়েক ধাপে টাকা এনেও দেয়। তাতেও স্বামী শাহীনুরের মন ভরে না।

সম্প্রতি শাহীনুর তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ির ওয়ারিশ বিক্রি করে টাকার আনার চাপ প্রয়োগ করে। স্বপ্না তার সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে তার শেষ সম্বল বাবার বাড়ির ওয়ারিশ আনতে অসম্মতি প্রকাশ করলে শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন। সপ্তাহ খানেক আগে স্বপ্না মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে শাহীনুরের মা-বাবা পুত্রবধূ স্বপ্নাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তার বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসে।

নিহত স্বপ্নার বাবা মুন্নান মেম্বার বলেন- ‘জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ার কারণে স্বপ্নাকে তার স্বামী ও শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি মিলে বর্শা দিয়ে উপর্যোপরি আঘাত করে হ’ত্যা করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে খবর দিলে আমাদের ফোন করে জানায়। গিয়ে দেখি লাশ পড়ে আছে। এসময় শাহীনুরসহ ওই পরিবারের কেউ হাসপাতালে ছিল না। আমার মেয়েকে নির্মমভাবে যারা হ’ত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির চাই।’

এদিকে স্বপ্নার শ্বশুড় বাড়িতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে- পরিবারের সবাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। অপরদিকে স্বপ্নার বাবার বাড়িতে চলছে মেয়ে হারানোর শোকের মাতম।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম তুহীন আলী বলেন, ‘স্বপ্নাকে বর্শা দিয়ে তার স্বামী একাধিক আঘাত করে হ’ত্যা করে। পরে লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেখে তারা পালিয়ে যায়। মরদেহ মর্গে রয়েছে। এঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে