সখীপুরে বিনাদোষে ২৫ দিন ধরে কারাভোগ করছে কালেজ ছাত্র নয়ন

0
73

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের সখীপুরে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে করা একই মামলায় দুই নয়ন কারাভোগ করছেন। ওই মামলায় বিনাদোষে গত ২৫দিন ধরে জেল খাটছেন কলেজ ছাত্র বাবুল হোসেন নয়ন ।

গত ২১ আগস্ট উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের প্রতিমা বংকী গ্রামের ৫ম শেণির এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর কক্সবাজার একটি হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এ ঘটনা ঘটে। অপহরণের পাঁচদিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেক এলাকা থেকে ওই ছাত্রী উদ্ধার হলে ২৬ আগস্ট মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার পরপরই পুলিশ সরকারি মুজিব কলেজ থেকে চলতি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী প্রতিবেশী বাবুল হোসেন নয়নকে গ্রেফতার করে।

এ সময় গ্রেফতার হওয়া বাবুল হোসেন নয়নকে মেয়েটির মুখোমুখি করলে মেয়েটি ওই নয়নকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু নয়ন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ওই ছাত্রীকে চিনেনা এবং কক্সবাজারে যায়নি বলে জোর দাবি করতে থাকে। মেয়েটির অনড় অবস্থানের কারণে নয়নকে পাঁদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠালে আদালত পুলিশকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। জেলগেটে জিজ্ঞাবাদের সময়ও নয়ন বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করছিল।

মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করেন সখীপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান। পরে মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। পরে ওই হোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বর ও সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৭ অক্টোবর ঘটনার আসল নায়ক বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হওয়া নয়ন মিয়া ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিও দেয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে