দরিদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে শোষণ করা বন্ধ করতে হবে: জাতিসংঘে ইমরান খান

0
8

ইনসাফ | নাহিয়ান হাসান

হোয়াইট কলার ক্রাইমের মাধ্যমে দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে পাচার করা সকল অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেন, প্রতিবছর হোয়াইট কলার ক্রাইমের মাধ্যমে দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো থেকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়ে থাকে। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে শোষণ করা বন্ধ করতে হবে। দরিদ্র এ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে পাচারকৃত অর্থ অবিলম্বে সেই দেশগুলোতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাচ্ছি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আর্থিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বিষয়ক উচ্চকক্ষের প্রতি লক্ষ্য করে ইমরান খান বলেন, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো করফাঁকি দেওয়ার কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিসাধন হয়। মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে কর সুবিধা দিতে স্বল্প কর গ্রহণকারী রাষ্ট্রে লভ্যাংশ স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া মোটেও উচিত নয়।

এছাড়াও তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এখনই এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই সমস্যার প্রতিকার স্বরূপ মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর উপর অন্ততপক্ষে বৈশ্বিক কর্পোরেট ট্যাক্স ধার্য করা যেতে পারে।

ইমরান খান আরো বলেন, অর্থ পাচার রোধে জাতিসংঘের উচিত যথোপযুক্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা।কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে ধনী এবং গরীবের মাঝে বৈষম্য দিনের পর দিন বাড়তেই থাকবে।

হোয়াইট কলার ক্রাইমের মাধ্যমে প্রতি বছর ট্রিলিয়ন ডলার পাচার সম্পর্কে তিনি বলেন, যে সব দেশে এই সব টাকা রাখা হয় সেসব দেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত ওই সমস্ত ব্যাংকের জন্য কঠোর আইন ও নীতিমালা তৈরি করা যারা দরিদ্র দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ব্যবহার করে।

পাচারকৃত অর্থের একাউন্টধারীদের ব্যাপারে ইমরান খান বলেন, যারা পাচারকৃত অর্থের একাউন্টধারী ও তত্বাবধায়ক এবং ঘুষ নিয়ে এমন জঘন্য কাজে সহায়তাকারী, তাদের সকলকেই আইনের আওতায় এনে তদন্ত বা নিয়মিত জবাবদিহি করা যেতে পারে।

দুর্নীতি রোধে পাকিস্তানের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্নীতি নির্মুলে আমাদের সরকারকে জরুরী দিকনির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ইমরান খান বলেন, ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের আমি অনুরোধ করবো তারা যেনো ন্যায্য বিনিয়োগের মাধ্যমে ওই সমস্ত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

পাক প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থ পাচারের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এমনকি জাতিসংঘের উচিত অবৈধ আর্থিক রেমিট্যান্স মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংস্থার কাজে সমন্বয় সাধন করার জন্য একটি উন্নত ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।

তিনি বলেন, অর্থ পাচার সংশ্লিষ্ট অপরাধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ট্যাক্স আদায়কারী কর্তৃপক্ষের বিচারকদের জরিমানা ধার্য করার ক্ষমতা দিতে হবে।

সূত্র:জিও নিউজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে